পর্দা উঠেছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। বিশ্বকাপের মাঝেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ের ইঙ্গিত দিলেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তিনি জানান, চলতি বিশ্বকাপই হয়তো জাতীয় দলের জার্সিতে তার শেষ টুর্নামেন্ট হতে পারে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারেন।
মিশরের বিপক্ষে বেলজিয়ামের প্রথম ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কোর্তোয়া বলেন, ‘আমি জানি না এই মুহূর্তে আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা উচিত কি না, তবে এই টুর্নামেন্টের পর আমি খেলা চালিয়ে যাব না, এমন সম্ভাবনাই বেশি। আমার পরিবার এখানে আছে, কারণ এটাই আমার শেষ টুর্নামেন্ট হতে পারে।’
২০১১ সালে বেলজিয়ামের জার্সিতে অভিষেক হয় কোর্তোয়ার। এরপর দেশের হয়ে ১০৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সম্প্রতি চোট-আঘাতের কারণে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন কোর্তোয়া। তিনি বলেন, ‘আমি আরও অনেক বছর খেলতে চাই। এ জন্য নিজের শরীরের যত্ন নিতে হবে। আমি দেখেছি, আন্তর্জাতিক বিরতিতে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং জিমে নিরিবিলি অনুশীলন করা যায়। গত দেড় বছরে আমার ছোটোখাটো শারীরিক সমস্যা ও চোট বেশি হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বেশি ভাবতে হয়।’
অবসরের ইঙ্গিত দিলেও, জাতীয় দলের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি কোর্তোয়া। বিশ্বকাপে বেলজিয়াম ভালো করলে, জাতীয় দলের জার্সিতে খেলা অব্যাহত রাখতে পারেন তিনি। ৩৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক বলেন, ‘বিশ্বকাপটা দলের ভালো গেলে অবশ্যই নতুন করে ভাববো। এছাড়া দলের ভেতরের পরিবেশ যদি ভালো থাকে, তাহলেও ভেবে দেখা যাবে। টুর্নামেন্ট শেষে কোচ, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও চিকিৎসকদের সঙ্গে আমাকে আলোচনায় বসতে হবে। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’
গত দেড় বছরে চোট-আঘাতে জর্জরিত ছিলেন কোর্তোয়া। বিশ্বকাপের আগেই ইনজুরিতে ভুগেছেন তিনি। তবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচকে সামনে রেখে নিজেকে ফিট করে তুলেছেন কোর্তোয়া। সতীর্থদের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে ভালো করতে মুখিয়ে আছেন এই গোলরক্ষক। তিনি বলেন, ‘দলের বাকিদের মতো আমিও খুব ক্ষুধার্ত। আমি খুব ভালো বোধ করছি এবং পুরোপুরি প্রস্তুত। চোটটা দুর্ভাগ্যজনক ছিল। কিন্তু আমি এখন আমার খেলার মান বজায় রাখতে এবং মনোযোগী থাকতে প্রস্তুত আছি।’
‘জি’ গ্রুপে আগামী ১৬ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। এই গ্রুপে বেলজিয়ামের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ইরান ও নিউজিল্যান্ড।