‘বড় ভাইয়ের’ ফোন না ধরায় অফিসে ঢুকে মারধর-লুটপাট, গ্রেপ্তার ১

ঢাকার লালমাটিয়ায় একটি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কথিত এক ‘বড় ভাইয়ের’ ফোন না ধরায় একদল দুর্বৃত্ত অফিসে ঢুকে কর্মীদের মারধর করে এবং দামি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। 

এ ঘটনায় ইরফান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে টিপু নামে কথিত সেই ‘বড় ভাইয়ের’ খোঁজ চলছে।

গত ৯ জুন রাত ৮টা ৪৩ মিনিটে রাজধানীর লালমাটিয়ার ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডট ইন্টারনেটের অফিসে মুখোশধারী ৭ থেকে ৮ জন ঢুকে পড়ে। এ সময় সিঁড়ি ও গেটের বাইরে আরও ৫ থেকে ৬ জন অবস্থান করছিল।
 
অফিসে ঢুকেই হামলাকারীরা হিসাবরক্ষকের কক্ষে যায়। ‘বড় ভাইয়ের’ ফোন ধরেননি কেন-এ অভিযোগ তুলে তারা হিসাবরক্ষককে মারধর শুরু করেন। তাকে বাঁচাতে গেলে আরেক কর্মীকেও মারধর করা হয়। ভুক্তভোগী সেই কর্মী জানান, হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করলে কানে আঘাত করা হয়। পরে কক্ষ থেকে বের হয়ে আসি, কিন্তু হামলাকারীদের আচরণ ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক।
 
এরপর অভিযুক্তরা প্রতিষ্ঠানের মালিকের কক্ষ খুঁজতে থাকে। কক্ষ তছনছ করে মালিকের কম্পিউটার ও ড্রয়ারে থাকা একটি আইফোন নিয়ে যায়। 

পুরো ঘটনাটি ভিডিও কলে কথিত সেই ‘বড় ভাইকে’ দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মী জানান, হামলাকারীদের কারও কারও কোমরে অস্ত্র সদৃশ কিছু ছিল বলে মনে হয়েছে। তাদের আচরণও ছিল অত্যন্ত মারমুখী।
 
ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা বলেন, হামলাকারীরা যে-ই হোক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। কারণ আমরা কোনো অপরাধ না করেও এমন হামলার শিকার হয়েছি।
 
এ ঘটনার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা আতঙ্কে রয়েছেন। তাদের দাবি, অফিসে যে ধরনের হামলা হয়েছে, তা অনেকটা চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা যেভাবে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে, তার সঙ্গে মিল রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্র এখানে চাঁদাবাজির চেষ্টা করেছে কি না। 

ভুক্তভোগীদের মতে, হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পারলেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে।
 
হামলার ধরন দেখে পুলিশও মনে করছে, এর পেছনে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নারায়ণগঞ্জ থেকে ইরফান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অন্যদেরও শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
 
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আমরা সব দিক বিবেচনায় তদন্ত করছি। যে-ই হোক, ওই কথিত বড় ভাইকেও আইনের আওতায় আসতে হবে। 

মোহাম্মদপুরে কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা দুষ্কৃতকারীর ঠাঁই হবে না। এলাকাবাসীর জন্য নিরাপদ ও আস্থাশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ ও মোহাম্মদপুর থানা কাজ করছে।
 
চাঁদা না পেয়ে গত বছরও শেরশাহশুরী রোডে একটি আবাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুই দফা গুলি চালিয়েছিল সন্ত্রাসীরা।