কুয়েতে জাল স্ট্যাম্প বিক্রির অভিযোগে ৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, সরঞ্জাম জব্দ

কুয়েতে সরকারি রাজস্ব স্ট্যাম্প জালিয়াতি ও অবৈধ বিক্রির এক বিশাল চক্রের সন্ধান মিলেছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিনের নিবিড় নজরদারি, গোপন অনুসন্ধান ও সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের পর এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই জালিয়াতি চক্রটিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

শুক্রবার (১২ জুন) কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, ধৃত অভিযুক্তরা স্থানীয় একটি হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ওত পেতে থাকত। তারা বিভিন্ন প্রবাসী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে জাল সরকারি স্ট্যাম্প বিক্রি করে আসছিল। মূলত ৫ ও ১০ কুয়েতি দিনার মূল্যের সরকারি রাজস্ব স্ট্যাম্প বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে সরবরাহ করে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল এই চক্রটি।

কুয়েতের রেসিডেন্সি অ্যাফেয়ার্স ইনভেস্টিগেশনস ডিপার্টমেন্টের একটি বিশেষ দল সফল অভিযান পরিচালনা করে এই পাঁচ বাংলাদেশিকে আটক করে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চক্রটি অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে এই জালিয়াতি চালাচ্ছিল। তারা প্রথমে সরকারি স্ট্যাম্পের আসল কাগজ সংগ্রহ করত এবং পরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় হুবহু জাল স্ট্যাম্প তৈরি করত। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আস্তানা থেকে একটি ল্যাপটপ, প্রিন্টার এবং স্ট্যাম্প তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের স্ট্যাম্প পেপারের রোল জব্দ করেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা একটি হাসপাতাল থেকে সরকারি রাজস্ব স্ট্যাম্পের আসল কাগজের রোল চুরি করেছিল। পরবর্তীতে সেই চুরির কাগজ ব্যবহার করেই তারা জাল স্ট্যাম্প প্রস্তুত করে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করত।

কুয়েত কর্তৃপক্ষ বলছে, এই জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নথিপত্রের নিরাপত্তাও চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে আরও বড় কোনো চক্র বা অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে।

আপাতত আটক পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং জব্দকৃত আলামতসহ তাদেরকে দেশটির সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সরকারি অর্থ, নথিপত্র ও রাজস্বসংক্রান্ত কোনো ধরনের জালিয়াতি বা কারসাজির বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।