নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রশিক্ষণের নামে বিশেষ সম্মানি ভাতা আটকে গেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে প্রশিক্ষণের অনুকূলে প্রস্তাবিত ‘বিশেষ সম্মানি’ বাজেট এখনো অনুমোদন হয়নি। বিশেষ বক্তা, কোর্স উপদেষ্টা, কোর্স পরিচালক এবং কোর্স সুপারভাইজারের নামে প্রস্তাবিত বাজেট বন্ধ করে দিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব ইত্তেফাককে বলেন, প্রশিক্ষণের নামে বিশেষ বক্তা, কোর্স উপদেষ্টা, কোর্স পরিচালক এবং কোর্স সুপারভাইজিং-এর অনুকূলে সম্মানি গ্রহণ যৌক্তিক নয়। এজন্য ইটিআই থেকে এ ধরনের প্রস্তাবনা এলে আর্থিক বিধিবিধান অনুযায়ী তা যুক্তিসঙ্গত নয় মনে করে কমিশনে উপস্থাপন করেছি। যদিও কমিশন এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।
ইসি সচিব মনে করেন, আগামীতে যেসব নির্বাচন হবে সেখানে এসব বরাদ্দ থাকা সমীচীন নয়। উল্লেখ্য, আগামীতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি এবং চট্টগ্রাম সিটির ভোট রয়েছে। এছাড়াও পৌরসভার ভোট কাছাকাছি। গত ১১ জুলাই ময়মনসিংহের তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন এবং গত ২৫ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একটি ওয়ার্ডের উপনির্বাচনসহ (ইভিএম) স্থানীয় সরকারের আড়াই শতাধিক নির্বাচনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের নামে বিশেষ বক্তা, কোর্স উপদেষ্টা, কোর্স পরিচালক ও কোর্স সুপারভাইজারদের জন্য ইটিআই থেকে বিশেষ সম্মানি প্রদানে বাজেট প্রস্তাবনা পাঠানো হয়; কিন্তু ইসি সচিব ঐ প্রস্তাবনা অনুমোদন করেননি। তিনি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের প্রশিক্ষণের বাজেট অনুমোদনে কমিশনে পাঠান। আজ পর্যন্ত অনুমোদন করেনি কমিশন।
এ বিষয়ে সচিব বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বর্তমানে সিইসি সৌদি আরবে পবিত্র হজে রয়েছেন। এছাড়াও নির্বাচনের সময়ে দুই নির্বাচন কমিশনার দেশের বাইরে ছিলেন। যে কারণে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনাগুলো অনুমোদন হয়নি। ঐগুলো কমিশন অনুমোদন করবে কি না তা বলতে পারি না।
এদিকে, ইসির একটি সূত্র জানিয়েছে, বিধিবিধান অনুযায়ী বিশেষ বক্তার নামে প্রশিক্ষণের সম্মানি অনেকেই অযৌক্তিক মনে করলেও কমিশন সর্বশেষ একটি পৌরসভার নির্বাচনে দুই জনের বিশেষ বক্তার সম্মানি অনুমোদন করেছে। গত ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার নির্বাচনের আগে গত ১৮ জুলাই নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন। নির্বাচনে অনিয়ম হলে গুলির নির্দেশ দেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, ঐ সভায় অংশগ্রহণের জন্য কমিশনসংশ্লিষ্ট দুই জনের নামে প্রশিক্ষণে বিশেষ বক্তা হিসেবে সম্মানি ভাতা অনুমোদন করেছে।
গত একাদশ জাতীয় সংসদ ও চতুর্থ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রশিক্ষণের পেছনে প্রায় ১২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল নির্বাচন কমিশন। দুইটি জাতীয় দৈনিক ইসির প্রশিক্ষণ নিয়ে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশিত হলে চরম সমালোচনার মুখে পড়ে কমিশন। বরাদ্দকৃত টাকায় যে প্রশিক্ষণ হয়েছে তাতে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। শুধু বিশেষ বক্তা, কোর্স উপদেষ্টা, কোর্স পরিচালক এবং কোর্স সুপারভাইজার নামে ২ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। তবে মাঠ পর্যায়ে জেলা অফিসের মাধ্যমে বেশিরভাগ অর্থ বরাদ্দ করা হয়। সেই বরাদ্দকৃত টাকার ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়কেজন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা। তারা বলছেন, বিগত দুইটি নির্বাচনের সময়ে প্রশিক্ষণের জন্য প্রত্যেক জেলা অফিসের নামে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেই টাকার ভাগও ঢাকার সংশ্লিষ্টরা নিয়েছেন। জেলা অফিসাররা নিজেরাও লাভবান হয়েছেন পাশাপাশি ঢাকার প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্টদেরও লাভবান করেছেন।