পুশইনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলার এলাকায় শূন্যরেখা জুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে ওই এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নেয় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ ও সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ। একপর্যায়ে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবাসীর শক্ত প্রতিরোধের মুখে পুশইন করার ৪ দিনের মাথায় শিশু-নারীসহ ১২ জনকে নিয়ে পিছু হটেছে বিএসএফ।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার ভোরে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমানা পিলার-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে নারী-শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে, বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবাসীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এর পর থেকে তারা কাঁটাতারের এপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করছিল।
বিষয়টি নিয়ে গেল শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় প্রাগপুরের সন্নিকটে বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সাব-পিলার-সংলগ্ন শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি অবৈধ পুশ ইনের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সীমান্তের শুন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়।
জবাবে বিএসএফ জানায়, ওই ১২ জনের পরিচয় ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ততদিন পর্যন্ত তাদের সীমান্ত এলাকাতেই অবস্থান করতে হবে। এর পর আরও একদিন কেটে যায়। এরপর আজ সোমবার সকালে বিএসএফ ভারতীয় সিমান্তবাসীদের নিয়ে শূন্য লাইন এলাকায় এসে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলে। ফলে বর্ডার-গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ও গ্রামবাসীও শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুললে বিএসএফ তাদের পুশইন করা সেই ১২ জনকে নিয়ে পিছু হটে। এবং তাদের সীমান্তের কাঁটাতারের ভেতরে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল জানান, সকালে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর শক্ত প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের পুশইন করা ১২ জনকে নিয়ে পিছু হটেছে। বর্তমানে তারা ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের ভেতরে অবস্থান করছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন বলে জানান।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। ৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়া-ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা জানান, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। স্থানীয়দের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে।