কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে প্রায় ১০ ঘণ্টার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর কোম্পানি পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ১২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি শিশুকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
জানা যায়, উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঘগয়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা জামাল উদ্দিন ও নাজমা বেগম দম্পতির মেয়ে জয়নব খাতুন (১২) শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে সীমান্তবর্তী দক্ষিণ অনন্তপুর-নাজিরহাট এলাকার আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৪৩/৩ সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।
সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাকে দেখতে পেয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে। এ সময় কাশিপুর বিওপির টহলরত বিজিবি সদস্যরা কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নিজেকে ভারতের বাসিন্দা বলে দাবি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ভারতের দিকে পাঠানো হয়।
পরে বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এক পর্যায়ে ১৩৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ধাপরাহাট বিওপির সদস্যরা ভারতীয় সীমান্তবর্তী শুকারেরকুটি গ্রাম এলাকা থেকে কিশোরীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তে তার বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিএসএফ বিষয়টি বিজিবিকে জানায়। এরপর বিজিবি কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সর্বশেষ রাত ১১টার টার দিকে আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৪৩-এর সাব-পিলার ৩-এস সংলগ্ন এলাকায় কোম্পানি পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফ কিশোরী জয়নবকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
পতাকা বৈঠকে কাশিপুর বিওপির সুবেদার ইব্রাহিম আলীর নেতৃত্বে বিজিবি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। বিএসএফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এছাড়াও পতাকা বৈঠকে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক, ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
কিশোরীর মা নাজমা বেগম জানান, শনিবার সকালে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর সময় খাবার নিয়ে বায়না ধরলে তিনি তাকে না খাইয়েই স্কুলে পাঠান। পরে দুপুরে স্কুলে গিয়ে জানতে পারেন, তার মেয়ে সেখানে যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানতে পারেন, সে সীমান্ত এলাকায় গেছে এবং বিএসএফ তাকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে। এরপর পতাকা বৈঠকের পর আমার সন্তানকে ফেরত পাই।
কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, ‘পতাকা বৈঠক শেষে বিএসএফ কিশোরীকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিজিবি আমার জিম্মায় দেয়।’
লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন কাশিপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইব্রাহিম আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পতাকা বৈঠক শেষে রাত ১২টার দিকে কিশোরীকে চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।

