খোলনলচে পালটে ফেলা হয়েছে হামদর্দের গেজেটে

অলাভজনক ও জনকল্যাণমূলক ওয়াক্ফ প্রতিষ্ঠান ‘হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ’-এর বিতর্কিত গেজেট নিয়ে গতকাল শনিবার ‘ইত্তেফাক’-এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর এনিয়ে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। ওয়াক্ফ কর্তৃপক্ষের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ বছরের মার্চে যে গেজেটটি প্রকাশ করা হয়েছে তাতে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার নিয়মকানুনের খোলনলচেই পালটে ফেলা হয়েছে।

হামদর্দের ১৯৬২ সালের মূল গেজেটে স্পষ্ট করেই বলা রয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট কিংবা হাইকোর্ট বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন; কিন্তু বর্তমান গেজেটে সেটি পালটে ফেলা হয়েছে। হামদর্দের বর্তমান ৯ সদস্যবিশিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কাজী গোলাম রহমান, যিনি অবরসপ্রাপ্ত কোনো বিচারপতি নন। জানা গেছে, ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৬২ এবং পরবর্তী সময়ে ৮৬ সালে প্রণীত গেজেট অনুযায়ী চললেও ব্যত্যয় ঘটতে শুরু করেছে ২০১১ সালের পর থেকে। ব্যত্যয় ঘটায় একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া মীর কাশেম আলীকেও একবার ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল।

হামদর্দের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাকিম মো. ইউছুফ হারুন ভুঁইয়ার ছোটো ছেলে ও হামদর্দের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল উদ্দিন ভুঁইয়া রাসেল ইত্তেফাককে বলেছেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে জানা গেছে, এমডি ইউছুফ হারুন নিজে বিএমডব্লিউ এবং তার পছন্দের কয়েকজন পরিচালক প্রতিষ্ঠানের অর্থে উচ্চ দামের গাড়ি ব্যবহার করছেন। এমনকি প্রতিষ্ঠানের অর্থে ব্যক্তিগত নামে ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।