২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে এক বিস্ময়কর ও বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রাজিলের এক জ্যোতিষী দাবি করেছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে মায়ামির একটি স্টেডিয়ামে এলিয়েন বা ভিনগ্রহীদের মহাকাশযান অবতরণ করবে এবং খেলোয়াড়, রেফারি ও দর্শকদের মধ্যে শত শত মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যাবে।
এই দাবি করেছেন ব্রাজিলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত আধ্যাত্মিক গুরু ও জ্যোতিষী এলিসাঞ্জেলা দে সুজা, যিনি ‘ভো বাহিয়ানা’ নামে পরিচিত। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা দুই কোটিরও বেশি বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিওতে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, একটি স্বপ্নে তিনি দেখেছেন যে মায়ামির একটি স্টেডিয়ামে ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিশাল একটি ইউএফও অবতরণ করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শতাধিক এলিয়েন সেখানে উপস্থিত হবে এবং মুহূর্তের মধ্যে চিৎকার, কান্না ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় খেলোয়াড়, ম্যাচ কর্মকর্তাসহ ৭০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ বা অপহৃত হতে পারে।
ভো-বাহিয়ানা তার ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশেষভাবে ২০২৬ সালের ২৪ অথবা ২৬ জুন তারিখের কথা উল্লেখ করে ওই সময় মায়ামির স্টেডিয়াম এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি অনেক চিৎকার, অনেক কান্না এবং কষ্ট দেখেছি। যারা পারবেন, ওই দিন স্টেডিয়াম থেকে দূরে থাকুন।’
ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের ধারণা, তিনি সম্ভবত মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিতব্য সম্ভাব্য ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচের কথাই ইঙ্গিত করেছেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্রাজিলীয় অভিনেতা ও কনটেন্ট নির্মাতা জে ক্লেও। টিকটকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি এই ঘটনাকে ভবিষ্যতের কোনো বড় পরিবর্তনের সম্ভাব্য সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অনেকে এই ঘটনাকে ২০২৪ সালে মায়ামির একটি শপিং মলকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত ‘এলিয়েন’ গুজবের সঙ্গে তুলনা করছেন।
সে সময় কিশোরদের আতশবাজি ফোটানো এবং পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ভিনগ্রহী দেখার নানা দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল, যা পরে ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভো বাহিয়ানার এই দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। ফলে বিষয়টিকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে নয়, বরং একটি ব্যক্তিগত স্বপ্ন বা অনুমান হিসেবেই দেখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে মজার প্রতিক্রিয়াও কম নয়। কেউ লিখেছেন, এত দূর থেকে এলিয়েনরা যদি আসে, তবে কি শুধু ব্রাজিলের তারকাদের খেলা দেখতেই আসবে? আবার কেউ পুরো ঘটনাকে জনপ্রিয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে ছড়ানো গুজব বলেই মন্তব্য করেছেন।
বিশ্বকাপকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও, এলিয়েনদের সম্ভাব্য আগমন ও অপহরণের এই ভবিষ্যদ্বাণী আপাতত নেটদুনিয়ার কৌতূহল ও হাস্যরসের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দ্য সান