তবু স্পটলাইটে নেইমার

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ১৫:৪৬

ডান পায়ের পেশির চোটের কারণে রোববার মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি নেইমার। তবে দলের সঙ্গে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ঠিকই উপস্থিত ছিলেন তিনি। মাঠে নামতে না পারলেও ডাগআউটে ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে। যেখানে সতীর্থদের উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি তাকে ক্যামেরার সামনে বেশ হাসিখুশি দেখা যায়। ম্যাচে ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করেছে। মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি প্রথমে গোল করে এগিয়ে দিলেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চোখ ধাঁধানো গোলে সমতায় ফেরে সেলেসাওরা।

মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হয়েছিল উদ্বেগ, প্রত্যাশা আর উত্তেজনার মিশেলে। মাঠের ঘাসে যখন যুদ্ধ করছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়ররা, তখন এক পরিচিত মুখকে খুঁজছিল লাখো ব্রাজিলিয়ান সমর্থকের চোখ। সেই মুখটি ছিল নেইমারের। কিন্তু সেদিন তিনি ছিলেন না সবুজ ঘাসের মঞ্চে, ছিলেন স্টেডিয়ামের এক কোণে। তবু আলো যেন ঠিকই তাকেই ঘিরে রেখেছিল। 

Will Neymar Play Brazil's Next World Cup Match? Latest Injury Update After  Morocco Draw - Yahoo Sports

চোটের কারণে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি ব্রাজিলিয়ান মহাতারকার। তবু তার মুখে ছিল না কোনো হতাশার ছাপ। বরং গ্যালারিতে বসে তাকে দেখা গেছে হাসিখুশি, প্রাণবন্ত আর স্বভাবসুলভফুরফুরে মেজাজে। যেন ম্যাচের চাপ নয়, তিনি উপভোগ করছিলেন ফুটবলের এক অনন্য সন্ধ্যা।

ব্রাজিল যখন মরক্কোর শক্ত প্রতিরোধ ভাঙার চেষ্টা করছে, তখন নেইমার ছিলেন সতীর্থদের সবচেয়ে বড় সমর্থক। কখনো করতালি, কখনো উচ্ছ্বাস, কখনো আবার উদ্বিগ্ন দৃষ্টি-সব মিলিয়ে তিনি যেন মাঠের বাইরের এক অধিনায়ক। ক্যামেরা বারবার তার দিকে ঘুরে গেছে, আর প্রতিবারই দেখা গেছে সেই চেনা হাসি, যা বহু বছর ধরে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের প্রতীক। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জাদুকরী নৈপুণ্যে পাওয়া সেই ড্রয়ের রাতে অনেকেই আলোচনা করেছেন ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিয়ে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমানভাবে জায়গা করে নিয়েছে নেইমারের উপস্থিতি। কারণ তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন; তিনি এক আবেগ, এক যুগের নাম। মাঠে না থাকলেও তার উপস্থিতি সমর্থকদের মনে সাহস জোগায়। 

ব্রাজিলিয়ানদের কাছে নেইমার যেন সেই নক্ষত্র, যিনি মেঘের আড়ালে থাকলেও আকাশকে আলোকিত করে রাখেন। মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের রাত তাই শুধু ভিনিসিয়ুসের প্রত্যাবর্তনের গল্প নয়। এটি নেইমারেরও গল্প। এমন এক তারকার গল্প, যিনি বল পায়ে না ছুঁয়েও হাজারো হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকেন।

বিশ্বকাপের দীর্ঘ যাত্রা এখনো বাকি। ব্রাজিলিয়ান সমর্থকেরা আশা করছেন, খুব শিগগিরই গ্যালারির হাসিমুখ ছেড়ে মাঠের ঘাসেই ফিরবেন নেইমার। আর সেদিন হয়তো সাম্বার ছন্দে নতুন করে নাচবে সেলেসাওদের স্বপ্ন। তখন গ্যালারির দর্শক নয়, তিনি হবেন আবারও মাঠের কবি; বলের আঁচড়ে লিখবেন ব্রাজিলের নতুন মহাকাব্য।

ইত্তেফাক/জেডএইচ