রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য এক আতঙ্কের নাম ভিনিসিউস জুনিয়র। কিন্তু ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ জার্সিতে নামলেই যেন চেনা ছন্দের এই তারকাকে খুঁজে পাওয়া ভার হয়ে দাঁড়ায়। জাতীয় দলের হয়ে বড় টুর্নামেন্টে আশানুরূপ পারফর্ম করতে না পারায় প্রায়শই সমালোচকদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় এই তারকা ফরোয়ার্ডকে। তবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ডিফেন্ডার রবের্তো কার্লোস মনে করেন, চলমান বিশ্বকাপেই সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে ভিনিসিউস নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।
সম্প্রতি ইএসপিএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্লোস বলেন, ভিনিকে সবসময়ই প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে, সমালোচনার পাশাপাশি সে প্রশংসাও পাবে। তাকে বুঝতে হবে যে সে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং বিশ্বের সেরা জাতীয় দল ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করছে।
২৫ বছর বয়সী ভিনিসিউসের ওপর ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের বড় দায়িত্ব ন্যস্ত। কার্লোস মনে করেন, এই চাপকে ভিনির এড়িয়ে না গিয়ে বরং উপভোগ করা উচিত। সাবেক এই তারকা লেফট-ব্যাক পরামর্শ দিয়ে বলেন, ভিনিকে শান্তভাবে এই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হবে এবং মেনে নিতে হবে যে সে দলের অন্যতম প্রধান নেতা। সমালোচনা কিংবা দায়িত্ব—কোনোটি থেকেই তার মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।
চলমান বিশ্বকাপে ব্রাজিলের যাত্রা খুব একটা খারাপ হয়নি। মরক্কোর সঙ্গে প্রথম ড্র করা ম্যাচে দলের একমাত্র গোলটি এসেছিল ভিনির পা থেকেই। যদিও ম্যাচজুড়ে কিছু ঝলক দেখা গেছে, তবুও ফুটবলপ্রেমীরা তার কাছ থেকে আরও বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের অপেক্ষায় আছেন। কার্লোস অবশ্য ভিনির সামর্থ্য নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দিহান নন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমি পুরোপুরি নিশ্চিত যে, এই বিশ্বকাপেই ভিনি প্রমাণ করবে সে আসলে কে এবং পায়ে বল নিয়ে সে কী জাদু দেখাতে পারে।
কার্লোস আরও জানান, রিয়াল মাদ্রিদ ও সেলেসাওদের এই তারকার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ভিনি অত্যন্ত রোমাঞ্চিত এবং আত্মবিশ্বাসী। আমি নিয়মিত তার সঙ্গে কথা বলি। শিরোপা জেতার লড়াইয়ে এই ব্রাজিল দলের প্রধান ভরসা ভিনিকেই আমি বিশ্বের সমস্ত শুভকামনা জানাই।