সংসদে বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে নারী এমপির বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় ইংরেজি ও বাংলা মিশিয়ে বক্তব্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য জেবা আমিন খান। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংসদে বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্যের সমালোচনার জবাবে তিনি এই মিশ্র ভাষারীতিতে বক্তব্য দেন, যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের পেশ করা বাজেটে মূল আলোচনায় গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাজেটের সমালোচনা করেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা।

এর জবাবে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য জেবা আমিন খান বলেন, “মাননীয় স্পিকার আমি লক্ষ্য করেছি যে আমাদের বিরোধী দলের নেতা এখন কিছুক্ষণ আগেই আমাদের এক সাংসদ ভাই বলেছেন, আপনারা যদি আমাদের সংসদে বিরোধী দলে থাকেন অসুবিধা নাই কিন্তু আপনারা এর নিশ্চয় বাজেটে আরও কিছু ভালো আছে যেটা আপনারা বলতে পারেন এই বক্তব্যে। মাননীয় স্পিকার রংপুর ছয় (আসনের) সংসদ সদস্যের কিছু উত্তর দিতে চাচ্ছি। উনি দুইদিন আগে কিছু কথা বলেছেন, ‘সিক্সটিন হানড্রেড মাইল অফ কাঁচা রাস্তা, উনি হয়তো বা ভুলে গিয়েছেন যে একচুয়ালি বাংলাদেশের রাস্তাগুলো যদি আপনারা আমরা যারাই আমাদের রুট লেভেলে যাই, দ্য রাস্তাজ আর ভেরি ভেরি ব্যাড সিচুয়েশন। দিস ইস ডিউ টু দুর্নীতি। দ্যাটস উই হ্যাভ সিন ফ্রম দ্যা প্রিভিয়াস রিজিম। দে হ্যাভ লুটেড, লিটরেলি লুটেড দ্য কান্ট্রি। কোন বড় বড় উন্নয়নের প্রকল্প করেছেন ওনারা। কিন্তু জনগণের উন্নয়নের জন্য কোন কাজ করেননি। যার জন্য আমাদের এই কাঁচা রাস্তাগুলা এখনও আছে। দে আর অনলি ইন গভর্নমেন্ট ফর লাস্ট, হানড্রেড প্লাস স্পেস, সো ইউ সাম গিভ টাইম টু আওয়ার গভর্নমেন্ট।’

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে জেবা আমিন খান দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে কেবল বড় বড় প্রকল্পের নামে দেশজুড়ে লুটপাট হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কোনো কাজ করা হয়নি। এ কারণেই গ্রামে এখনো কাঁচা রাস্তা রয়ে গেছে। বর্তমান সরকার সবেমাত্র একশ দিনের সামান্য বেশি সময় পার করেছে উল্লেখ করে তিনি চলমান প্রশাসনকে আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলকে কৃষি হাব হিসেবে ঘোষণা করায় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানানোর জন্য তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান রাখেন।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে স্পিকার এই সংসদ সদস্যকে থামিয়ে দেন। স্পিকার তাকে মনে করিয়ে দেন যে, অন্য সদস্যদের সাধারণত ছয় মিনিট সময় দেওয়া হলেও তাকে আট মিনিট দেওয়া হয়েছিল। এরপর বক্তব্য শেষ করার বা গুটিয়ে আনার জন্য তাকে আরও এক মিনিট সময় দেওয়া হয়।

তবে জেবা আমিন স্পিকারের কাছে আরও সময় দাবি করে নিজের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা ঝালকাঠির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বিগত সরকারের মন্ত্রীদের ডিও লেটার (আধাসরকারি পত্র) নির্ভর কাজের সমালোচনা করে আরও কিছু কথা বলতে চেয়েছিলেন। তবে সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় স্পিকার তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করতে বাধ্য করেন এবং তাকে ভবিষ্যতে আরও সুযোগ পাওয়ার আশ্বাস দেন।