আইফোন প্রেমীদের জন্য দুঃসংবাদ দিলো টিম কুক

আইফোন, ম্যাকবুকের মতো পণ্য উৎপাদনকারী মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল পণ্যের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন টিম কুক। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

টিম কুক বলেন, বাড়তি খরচের চাপ কমানোর চেষ্টা করছে অ্যাপল। এতদিন গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব না পড়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখন আর আগের মতো নেই। দুঃখজনক হলেও দাম বাড়ানো অনিবার্য।

তবে নতুন আইফোনের দাম কত বাড়বে, তা স্পষ্ট করেননি টিম কুক। তবে চলতি বছরের শেষ দিকে আসতে যাওয়া আইফোন ১৮ সিরিজে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ডেটা সেন্টারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এতে ভোক্তাদের জন্য যারা প্রযুক্তিপণ্য তৈরি করে, তারা প্রয়োজনীয় উপাদানের সরবরাহ সংকটে পড়েছে। সেই সঙ্গে এসব উপকরণের দামও বেড়েছে অনেকটা।

এর আগে, গাড়ি কোম্পানি, খুচরা বিক্রেতা ও ইলেকট্রনিকস খাতের বিভিন্ন সংগঠন সতর্ক করেছিল, মেমোরি চিপের চাহিদা বাড়তে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। শুধু তাই নয়, সরবরাহব্যবস্থাও ব্যাহত হতে পারে।

জানা যায়, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্ব ছাড়বেন টিম কুক। তার জায়গায় আসবেন জন টার্নাস। তবে কবে থেকে দাম বাড়বে, কতটা বাড়বে কিংবা কোন কোন পণ্যে এর প্রভাব পড়বে-সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি কুক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডিং আইফোন বাজারে আনতে পারে। একই সঙ্গে উন্মোচিত হতে পারে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স।

কুক জানান, বিশেষ করে ডি-র‍্যামের (এমন একধরনের মেমোরি, ডিভাইস চালু থাকা অবস্থায় যা দ্রুত ডেটা সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সহায়তা করে) সরবরাহ-সংকট অ্যাপলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। উচ্চগতির মেমোরির বড় অংশ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–চালিত সার্ভারে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কুক আরও বলেন, একদিকে সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে গ্রাহকদের ডিভাইসের চাহিদা অব্যাহত আছে। ফলে মেমোরি চিপ নির্মাতারা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ভোক্তাপণ্যের জন্য মেমোরির দাম ও সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হওয়া দরকার বলে তিনি মত দেন।

কুক ইঙ্গিত দিয়েছেন, মেমোরি সরবরাহ বাড়াতে অ্যাপল তাদের নগদ অর্থভান্ডার ব্যবহার করতে প্রস্তুত। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নিজেদের অর্থ ও চিপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আলাদা মেমোরি বা স্টোরেজ কারখানা গড়ার পরিকল্পনা তাদের নেই।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আইফোন ১৮ প্রো তৈরিতে মেমোরি ও স্টোরেজ যন্ত্রাংশের খরচ আগের মডেলের তুলনায় প্রায় ১৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোও মেমোরি চিপের বাজারে বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে। ফলে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

এর আগে, আইফোন ১৮ প্রোর দাম আগের মডেলের মতোই রাখা হবে বলে গুঞ্জন ছিল। তবে টিম কুকের বক্তব্যে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেল। অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে জন টার্নাস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই টিম কুক নতুন আইফোনের বাড়তি দামের বিষয়ে গ্রাহকদের প্রস্তুত করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।