ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচোলত্তি আগেই জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছি; পিকনিক করতে যাচ্ছি না। দলের প্রয়োজেন যা কিছু করা দরকার সেটাই করছেন এবং করবেন তিনি। হঠাত্ করেই সিদ্ধান্ত নিলেন নেইমারকে দলের সঙ্গে নেবেন না। সবকিছু বুঝে শুনেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তিনি। ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিল আজ দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে খেলবে। খেলা হবে ফিলাডেলফিয়াতে। সেই শহরে গেছে ব্রাজিল।
কিন্তু দলের সঙ্গে নেওয়া হয়নি নেইমারকে। নেইমার নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সিতে থাকবেন। এই শহরেই ব্রাজিল অবস্থান করছে। আর খেলা হবে ফিলাডেলফিয়াতে। সড়কপথে দেড় ঘণ্টার দূরত্ব। নেইমার দলের সঙ্গে থাকলে ভালো হতো। কিন্তু এই ভালোর চেয়ে নেইমারের ভালোটা কোচের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
নেইমার প্রথম খেলায় মরক্কোর বিপক্ষে ডাগ আউটে ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাকে ঘিরেই ছিল সব উচ্ছ্বাস। ফুটবল-ভক্তরা যতটা না মাঠের লড়াই দেখেছেন, তার চেয়ে ঢের বেশি দেখেছেন নেইমারকে। টিভি ক্যামেরাগুলো মাঠের খেলার চেয়ে নেইমারের দিকে বেশি নজর রাখতে ব্যস্ত ছিল। নেইমার কখন কী করছে, কখন বসছে, উঠছে গোল না পাওয়ার আফসোস করছিল—সবই ক্যামরায় দেখা গেছে। এটাই কোচ আনচেলত্তির পছন্দ না।
আনচেলত্তি চাইছেন, তাকে মন দিতে বলেছেন নিজের অনুশীলনে। হাইতির বিপক্ষে খেলবেন না সেটি আগেই নিশ্চিত ছিল। হাইতিকে নিয়েও খুব বেশি ভয় পাচ্ছেন না আনচেলত্তি। অতীত পরিসংখ্যান ব্রাজিলের পক্ষেই। জয় নেই হাইতির। আনচেলত্তিও ধরে নিয়েছেন কীভাবে জিততে হবে। ফিফার তালিকায় হাইতির র্যাংকিং ৮৫, আর ব্রাজিলের অবস্থান ৬। মরক্কোর সঙ্গে যা হয়ে গেছে সেই চ্যাপটার শেষ। এখন এগিয়ে যাওয়ার পালা।
হাইতির ম্যাচে নেইমারকে মাঠে রাখা হলে বরং সেখানে ফোকাস নষ্ট হতে পারে। তা ছাড়া নেইমার অনুশীলন করুক। হোটেলেই থাকতে বলা হয়েছে। নেইমার খেলা দেখবেন টিভির পর্দায়। নেইমারকে ফিলাডেলফিয়াতে নিয়ে যাওয়া নিয়ে কোনো চমক দেখাতে চাইবেন না। অনেক কোচই আছেন তার দলের অস্ত্রটাকে নিয়ে সব কথা প্রকাশ করতে চান না। পরে মাঠে এনে চমক দেখান। মাঠে নামাবেন না ঘোষণা দিয়ে একাদশে রাখেন। নেইমারের বেলায় সেটি হচ্ছে না, তা নিশ্চিত।
যারা আজকে সকালে বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় ব্রাজিল-হাইতির ম্যাচ দেখতে গিয়ে নেইমারকে খুঁজবেন, তাদের প্রত্যাশা না-ও পূরণ হতে পারে। নেইমার দর্শন হবে না।
হাইতি হচ্ছে ক্যারিবীয় ফুটবলে সাহসের প্রতীক। তবে সহজ প্রতিপক্ষ হলেও ব্রাজিল শক্তভাবেই মোকাবিলা করতে প্রস্তুতি নিয়েছেন। কারণ মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর ব্রাজিল ফুটবল সমর্থকরা হতাশ হয়েছেন। আজ থেকে হতাশার দিন পেছনে ফেলে দেওয়ার সময়। ব্রাজিল ভক্তদেরকে হয়তো সেটাই বোঝাতে ফিলাডেলফিয়াতে গিয়ে ভিনিসিয়ুস, রাফিনহা, ব্রুনো, ক্যাসিমিরো, দানিলো, গ্যাব্রিয়েলরা দর্শকের সঙ্গে মিশেছেন। নিরাপত্তার বেষ্টনীর ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার সমর্থকের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, সেলফি তুলেছেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও ব্রাজিল ফুটবলাররা দর্শকের ভালোবাসা গ্রহণ করেছেন। ম্যাচের আগে চাঙ্গা হওয়া। ব্রাজিল ফুটবল ভক্তরা ধরেই নিচ্ছেন আজ থেকে বিশ্বকাপ শুরু হবে। হাইতিকে উড়িয়ে দিয়ে ম্যাচ জয়ের উত্সব শুরু করবেন। এই স্বপ্ন কতটা পূরণ হয় তা আগাম বলা কঠিন। কারণ কম শক্তির দলগুলো যেভাবে একের পর এক অঘটন ঘটিয়ে যাচ্ছেন তেমনটা না হয়ে যায় আজ।