আর্জেন্টিনা যেখান থেকে কাতার বিশ্বকাপ শেষ করেছিল, সেখান থেকেই এবার বিশ্বকাপ শুরু করেছে। গত চারটা বছর বিশ্বকাপ নিয়েই কাজ করেছে আর্জেন্টিনা। দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং লিওনেল মেসি—দুজন মিলেই একই দলটাকে তৈরি করার কারিগর। মূলত তাদের দুজনের পরামর্শেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। কাতার বিশ্বকাপে খেলা ১৭ জন ফুটবলার রয়েছেন এবারের দলে। সঙ্গে কিছু তরুণ শক্তি দলে যোগ দিয়েছেন। সেই দলটা নিয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলে আলজেরিয়াকে হারিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় নতুন এক আর্জেন্টিনাকে তুলে ধরেছে। মেসি হ্যাট্রিক করায় মেসির প্রতি ফুটবল দর্শকের নজরটাও বেশি। প্রথম ম্যাচের পরই মেসিময় হয়ে গেছে ফুটবল দুনিয়া।
যারা আর্জেন্টিনার সমর্থন করেনও না, তারা মেসিময় ফুটবল দেখেছেন। সব আলো মেসির ওপর থাকলেও আর্জেন্টিনা দলে রয়েছে ইতিহাস সৃষ্টি করা আরও ফুটবলার। মেসিকে চারপাশ থেকে যারা আলো ছড়ান তারাও আর্জেন্টিনার শক্তির ভিত গড়ে দেওয়ার কারিগর। কথাটা কখনোই অস্বীকার করনে না মেসি।
অ্যাস্টন ভিলার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, টটেনহামের ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, বেনফিকার নিকোলাস ওতামেন্দি, তাগলিয়াফিকো, ইন্টার মিয়ামির রদ্রিগো ডিপল, লিভারপুলের ম্যাক অ্যালিস্টার, চেলসির এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যাতলিকো মাদ্রিদের ম্যাউয়েল মনিলা, ইন্টার মিলানের লাউতেরা মার্টিনেজ, আতলেতিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজের মতো ফুটবলাররা মেসির চারপাশে ঘিরে রেখেছে। মেসির বয়স এখন ৩৮, আর দুদিন পর মেসির জন্মদিন। ৩৯ এ পা রাখবেন। তার আগে মেসি আরেকটা বিশ্বকাপের দুয়ারে এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম ম্যাচ জয় করে সেই বার্তাই দিয়েছেন। আজ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ।
হুলিয়ান আলভারেজ বলেছেন, ‘আমরা মেসির জন্য বিশ্বকাপ জেতার চেষ্টা করব। ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের দুই বার বিশ্বকাপ জেতাটা তারই প্রাপ্য।’ শুধু নিজের দলেরই নয়, প্রতিপক্ষের ফুটবলাররাও মেসিকে সমীহ করছেন।
অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার স্লাজার মেসিকে বিশ্বসেরা ফুটবলারের খেতাব দিয়ে বলেন, ‘মেসি এমন একজন ফুটবলার যিনি এতটা দীর্ঘ সময় ধরে অবিশ্বাস্য রকমের উঁচুমানের পারফরম্যান্স করে আসছেন। তাকে নিয়ে নেগেটিভ কথা বলার মতো সাহস আমার নেই। তবে মাঠে যখন নামব, তখন আমারও দায়িত্ব থাকবে মেসিকে ঠেকাও।’
অস্ট্রিয়া নাম শুনলে মনে হতে পারে সহজেই উতরে যাবে। ইতিহাস বলছে আর্জেন্টিনাকে একবার হারিয়েছে অস্ট্রিয়া, ১৯৬৬ সালে। ৮০-তে জিতেছে, ৯০-এ ড্র করেছিল আর্জেন্টিনা। ওসব নিয়ে ভাবতে রাজি না কোচ। ইউরোপিয়ান কোনো ফুটবল দলকে সহজেই ছেড়ে দেওয়া যায় না। মেসিদের কোচ স্কালোনি সেটা ভালোই জানেন। তাই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও সজাগ আর্জেন্টিনা। হাইভোল্টেজ ম্যাচ হিসাবেই দেখছেন কোচ।
আজকের একাদশে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যেমন প্রথম আলজেরিয়ার বিপক্ষে ইনজুরির কারণে খেলেননি উইংব্যাক মনিলা। গঞ্জালো খেলেছেন। তিনি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলবেন না ইনজুরির কারণে। আর্জেন্টিনা দলে অনেকই ইনজুরিতে রয়েছেন। এসব নিয়ে দলের মেডিক্যাল টিমও ব্যস্ত। বারবার আপডেট জানাতে হচ্ছে ।
স্কালোনি প্রতিটা ম্যাচ ধরে ধরে পরিকল্পনা করছেন। মোদ্দা কথা হচ্ছে—আর্জেন্টিনা যে ফর্মে রয়েছে, তাতে একটা কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়—আজ আর্জেন্টিনার আরেকটি মহারণ দেখবে ফুটবল দুনিয়া।
‘জে’ গ্রুপে আর্জেন্টিনা এবং অস্ট্রিয়া ৩ পয়েন্ট করে পেয়েছে। অন্য দুই দল, জর্ডান আলজেরিয়া। পয়েন্ট-শূন্য। অস্ট্রিয়া জিতেছিল জর্ডানের বিপক্ষে। শক্তি, সামর্থ্য সবকিছু বিবেচনা করলে আজ আর্জেন্টিনা জিতলে নকআউট পর্ব নিশ্চিত।