উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পানি বাড়তে থাকায় তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল ৯টায় তা ১০ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। বর্তমানে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি ৪৪টি জলকপাট খোলা রাখা হয়েছে। তবে উজান থেকে ঢল অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় নদীর পানি আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
এর আগে সোমবার রাত ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক ৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। গত শনিবারও নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।
নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের ফসলি জমিতে আবারও পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের দাবি, সোমবার রাত থেকে ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়ন এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর চর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। রাতের মধ্যেই নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। বড় ধরনের বন্যা হলে এসব এলাকা দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই এলাকার আনারুল ইসলাম বলেন, গত তিন দিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করছে। এতে চরাঞ্চলের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, সোমবার সকাল ৯টায় তিস্তার পানির উচ্চতা ছিল ৫১ দশমিক ৭৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। দুপুর ১২টায় তা সামান্য কমে ৫১ দশমিক ৭৬ মিটারে নেমে আসে এবং বিকেল ৩টা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকে।
তবে বিকেলের পর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা দাঁড়ায় ৫১ দশমিক ৯৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। পরে আরও বৃদ্ধি পেয়ে রাত ৯টায় ৫২ দশমিক ০৫ মিটারে পৌঁছে, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।