পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা

খাগড়াছড়ির দুর্গম একটি পাহাড়ি গ্রামের কথা কল্পনা করুন। ভোরের আলো ফোটার আগেই একজন মা উঠে পড়েন, তার মেয়েটির জন্য ভাত রান্না করেন, তার স্কুলের পোশাক গুছিয়ে দেন। মেয়েটির নাম হয়তো মাইচিং বা থুইমা বা লিপিকা। বয়স তেরো। প্রতিদিন সে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে প্রায় ঘণ্টাখানেক হেঁটে বিদ্যালয়ে যায়। বর্ষায় পিচ্ছিল পথ, শীতে কুয়াশায় ঢাকা চারপাশ, গ্রীষ্মে রোদের তাপে প্রচণ্ড গরমে প্রতিকূল পরিবেশ। তবু সে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যায়, কোনো কষ্ট তার মনে নেই। কারণ সে জানে—শহিদ লে. মুশফিক উচ্চ বিদ্যালয়ের দরজাটি তার জন্য একটি আলাদা পৃথিবী। এটি এমন পৃথিবী, যেখানে আছে তার স্বপ্ন পুরণের চাবিকাঠি। এই দরজা খুলে দেওয়ার পেছনে যে মানুষগুলোর অবদান রয়েছে, তাদের কথা আমরা অনেক সময় ভুলে যাই। পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার এই নিরন্তর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা শুধু দায়িত্ব পালনের গল্প নয়—এটি মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসার গল্প। এটি একটি রাষ্ট্রের তার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি দায়বদ্ধতার গল্প এবং এটি সেই বিশ্বাসের গল্প।

যে অন্ধকার অতিক্রম করে সামনে আসতে হয়েছে 
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূপ্রকৃতি এবং ইতিহাস অত্যন্ত প্রতিকূল এবং বহুমুখী। খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান—এই তিনটি জেলায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খেয়াং, লুসাইসহ অন্তত এগারোটি নৃগোষ্ঠীর মানুষসহ বাঙালি জনসাধারণ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করে আসছে। তাদের নিজস্ব ভাষা আছে, নিজস্ব সংস্কৃতি আছে, আছে নিজস্ব জীবন-দর্শন ।
আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে লেগেছে দীর্ঘ সময়। একদা পাহাড়ের অনেক শিশু বিদ্যালয়ে যেতে পারত না। কিছু গ্রামে বিদ্যালয় থাকলেও শিক্ষকগণ শহর থেকে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আসতে চাইতেন না । আর বর্ষা মৌসুমের কথা না হয় বাদ-ই দিলাম, রাস্তা বন্ধের কারণে দিনের পর দিন শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ে আসা ছিল অত্যন্ত দুরূহ।

দরিদ্র পরিবারের মা-বাবা ভাবতেন—বিয়ে তো দিতেই হবে; মেয়েকে পড়িয়ে কী লাভ? ছেলেকে স্কুলে পাঠানোর চেয়ে জুম চাষে সাহায্য অধিক জরুরি । ঘরে খাবার নেই, পড়ালেখা নিয়ে ভেবে কী লাভ? এটা তাদের সৃষ্টি ছিল না; এটা ছিল প্রতিকূল পরিবেশের বলি হওয়ার নিদারুণ বাস্তবতা। দারিদ্র্য ও শিক্ষার অভাব একে অপরকে নিয়ে আটকে থাকে এক দুষ্টচত্রে—এই চক্র থেকে মুক্তি পাওয়া ছিল একটি ঐতিহাসিক সংগ্রাম ।

মানবিকতার এক অনন্যপ্রতীক—বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আমরা সাধারণত শৃঙ্খলা ও অদম্য সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে দেখে থাকি। সেনাবাহিনীর কথা ভাবলে মনে আসে—সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ, কঠোর শৃঙ্খলা আর নিয়মানুবর্তিতার প্রতিচ্ছবি। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা বিস্তারে তাদের উদ্যোগের দিকে তাকালে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি মানবিক চিত্র ফুটে ওঠে। সেখানে একজন সেনা কর্মকর্তা একজন পাহাড়ি শিশুর পাশে বসে গণিত বা ইংরেজি বুঝিয়ে দিচ্ছেন। একজন সেনা সদস্যের স্ত্রী বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। একটি ক্যাম্পের নিরাপত্তা চাদরের মধ্যে গড়ে উঠেছে দুর্গম এলাকায় একটি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এই দৃশ্যগুলো একটি সংগঠনের মানবিক প্রতিচ্ছবি – যেখানে কঠোর শৃঙ্খলার ভেতরে ফুটে ওঠে মমতাময় হৃদয়।

শুরুটা হয়েছিল সীমিত পরিসরে– সেনা সদস্যদের সন্তানদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করতে গিয়ে। দুর্গম এলাকায় কর্মরত সেনা সদস্যরা পরিবার নিয়ে দূরদূরান্তে অবস্থান করেন। সেখানে তাদের ছেলেমেয়েদের মানসম্মত কোনো বিদ্যালয় নেই—এই সমস্যা সমাধানের জন্যই প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু যখন দেখা গেল, পাশের পাহাড়ি গ্রামের শিশুরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তখন শিক্ষার অবারিত দ্বার খুলে দেওয়া হলো সবার জন্য । এই যুগান্তকারী উদ্যোগের মধ্যে লুকিয়ে আছে জীবনের অন্তর্নিহিত সত্য— শিক্ষাকে কোনো বিশেষ শ্রেণি বা গোষ্ঠীর জন্য কুক্ষিগত করে রাখার সুযোগ নেই। আর শিক্ষার আলো যদি ছড়িয়ে দেওয়া না যায়, তহলে এর কোনো মূল্য থাকে না।

ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ পাহাড় থেকে পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়ে নতুন স্বপ্ন নিয়ে। বিদ্যালয়গুলোতে স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব জাতি-ধর্মের শিশুদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। গরিব পরিবারের সন্তানদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য টিফিনের ব্যবস্থা করা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য আয়োজন করা হয় পরিবহন ব্যবস্থার। ক্রমান্বয়ে এই ক্ষুদ্র প্রয়াসগুলো গহিন পাহাড়ে জ্বালাতে থাকে শিক্ষার আলো। আজ পার্বত্য চট্টগ্রামের সেনাবাহিনী পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে বাঙালি ও পাহাড়ি শিশুরা পাশাপাশি বসে পড়াশোনা করে। একটি চাকমা বা ত্রিপুরা মেয়ে আর একটি বাঙালি ছেলে একই দলে খেলাধুলা করে, একই সঙ্গে বসে বিতর্ক প্রতিযোগিতা করে। একজন মারমা শিক্ষার্থী বাংলায় কবিতা আবৃত্তি করে মঞ্চে পুরস্কার পায়। একটি খিয়াং মেয়ে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পায়, এখান থেকেই উঠে এসেছে আমাদের ঋতু পর্না চাকমারা জাতীয় দলের ফুটবলার হিসেবে। এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়াসগুলো বছরের পর বছর ধরে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করে গড়ে তোলে, সমাজের বিন্যাসকে করে আরো টেকসই।

শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে সেনাবাহিনী
সেনাবাহিনী পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া। এখানে শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীরা কেবল পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনের উপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পায়।

একটি শিশু যখন নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যালয়ে যায়, মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করে, বড়দের সম্মান করে, ছোটদের আদর করে, বন্ধুর সঙ্গে অনুভূতি বিনিময় করে, তখন সে আস্তে আস্তে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে শুরু করে। এই অভ্যাসগুলো এক দিনে গড়ে ওঠে না । প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজ, অভ্যাস, আচার-আচরণ, মানবিকতা ধীরে ধীরে শিশুদের চরিত্র গঠনের অংশ হয়ে ওঠে, একই সঙ্গে দুর্গম অঞ্চলে প্রতিকূল জীবনযাপনে শৃঙ্খলা একটি শিশুকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে আর নৈতিকতা ও নেতৃত্বগুণ গড়ে তোলে একজন সফল মানুষ হিসেবে। 

একটি শ্রেণিকক্ষ, অসীম স্বপ্ন আর সম্ভাবনার গল্প
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সমতলের মতো পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার মানোন্নয়নে নানাভাবে সহযোগিতা করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা-উপকরণ প্রদান, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদান করা হয়। কখনো কখনো সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ক্যারিয়ার বিষয়ক অনুপ্রেরণামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আলোচনা একই সঙ্গে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা, আধুনিক বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, সুসজ্জিত গ্রন্থাগার—এসব সুযোগ পার্বত্য অঞ্চলের শিশুদের কাছে এসেছে সেনাবাহিনীর উদ্যোগের মাধ্যমে। একটি শিশু যখন প্রথম বার কম্পিউটারের স্ক্রিনে আঙুল রাখে, যখন প্রথম বার মাইক্রোস্কোপে চোখ রেখে একটি অদৃশ্য জগৎ দেখতে পায়, যখন প্রথম বার গ্রন্থাগারের তাকে হাজার হাজার বইয়ের সারি দেখে—তখন তার ভেতরে যে বিস্ময় জন্ম নেয়, সেটাই জ্ঞানের সত্যিকারের শুরু। কিন্তু শুধু অবকাঠামোই নয়, মানসম্মত শিক্ষকও এসেছেন। যে শিক্ষক পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় একাগ্রচিত্তে পাঠদান করেন, বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থেকে তাদের গড়ে তোলেন, যাদের কাছে প্রতিটি শিশু কেবল একটি রোল নম্বর নয়—তিনি কোনো চাকরিজীবী নন, তিনি একজন পরিবর্তনের দূত । এই শিক্ষকরাই বিদ্যালয়ের প্রাণ। তাদের উৎসাহ, তাদের ধৈর্য, তাদের ভালোবাসা একটি শিশুকে বদলে দিতে পারে, একটি পরিবারকে বদলে দিতে পারে, একটি সম্প্রদায়কে বদলে দিতে পারে।

সামাজিক সম্প্রীতির সেতু: একসঙ্গে বড় হওয়ার শক্তি
পার্বত্য চট্টগ্রামের বহু বৈচিত্র্যময় জাতিগোষ্ঠীর শিশুরা যখন একই শ্রেণিকক্ষে বসে একই বই পড়ে, একই মাঠে খেলা করে, একই মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়—তখন তাদের মধ্যে একটি সহজাত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি, শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ এবং দক্ষ শিক্ষক দ্বারা পাঠদান নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে শুধু পাহাড়ি নয়, বাঙালি ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরাও এসব প্রতিষ্ঠানে উন্নত পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ পার্বত্য অঞ্চলে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। যার মাধ্যমে অঙ্কুরিত হয়েছে সম্প্রীতির বীজ। এই সম্প্রীতির বীজ বপনের কাজটি প্রতিদিন চলছে পার্বত্য অঞ্চলের সেনাবাহিনী পরিচালিত এবং সেনা সহায়তায় পরিচালিত সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার অপরিহার্য ভূমিকা
পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার কথা আমরা জানি। দীর্ঘকালের অবিশ্বাস, ক্ষোভের কথাও অজানা নয়। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, কিন্তু আরো উন্নতির সুযোগ রয়েছে। এই কাজে সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো শিক্ষা। শিক্ষা মানুষকে পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথে নিয়ে যায়, সংলাপের ভাষা শেখায় এবং সহাবস্থানের ভিত্তি গড়ে দেয়। এখানেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

যে তরল শিক্ষিত, সে জানে তার অধিকার আছে, সে জানে সেই অধিকার আদায়ের শান্তিপূর্ণ পথও আছে। একজন শিক্ষিত তরুণী একজন শিক্ষিত মা, সে শুধু নিজের জীবন গড়ে না – সে তার পরিবারকেও আলোর পথে নিয়ে যায় । একটি শিক্ষিত সমাজে গুজব ছড়িয়ে দাঙ্গা বাধানো কঠিন হয়, কারণ সেই সমাজের মানুষ প্রশ্ন করতে জানে, যাচাই করতে জানে, বিবেচনা করতে জানে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শিক্ষা উদ্যোগ শুধু একটি কল্যাণমূলক কর্মসূচি নয়—এটি একটি দূরদর্শী শান্তি- কৌশল।

সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সূচনায় সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ সেনাবাহিনীর শিক্ষাসহায়তা কার্যক্রমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনে। পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষার প্রসার সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করছে। ফলে ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পাচ্ছে।

বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক শিক্ষার্থী জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো ফলাফল করছে এবং দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও পেশাগত ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে। এই সাফল্যের পেছনে অবদান রেখেছে তাদের মা-বাবা, সমাজ ও রাষ্ট্রের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উদ্যোগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার মাধ্যমে সেনাবাহিনী যে অবদান রাখছে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্ত মানবিক ভিত্তি তৈরি করছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো – পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ঐসব উদ্যোগ বেল শিক্ষা বিস্তারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতেও সহায়ক। যখন একটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করে, তখন তা মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে । উপসংহার

লেখার শুরুতে যে মেয়েটির কথা বলেছিলাম— পাহাড়ের ঢাল বেয়ে যে প্রতিদিন বিদ্যালয়ের দিকে হেঁটে যায়—সে আসলে লক্ষ লক্ষ শিশুর প্রতিচ্ছবি। সেই পথ তৈরিতে যাদের অবদান আছে— বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পাহাড়ি গ্রামের শিক্ষক, অভিভাবক এবং পরিশ্রমী শিক্ষার্থী— সবাই এই উজ্জ্বল যাত্রার অংশীদার।

সর্বোপরি বলা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা, মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং বিভিন্ন শিক্ষাসহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে সেনাবাহিনী এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে। এই উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে আরো সম্প্রসারিত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন আরো এগিয়ে যাবে এবং এ অঞ্চলের সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে।

লেখক: সেনা কর্মকর্তা