উৎপাদনে ফিরেছে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট

প্রায় একমাস বন্ধ থাকার পর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট।

বুধবার (২৪ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী শাহ আলম। এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই ইউনিটে উৎপাদন শুরু হয়।

বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিটের মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এতে ১ নম্বর ইউনিটে ৬৫ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিটে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে ক্রমান্বয়ে ইউনিট দুইটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধ পাবে। এতে শুধুমাত্র ৩ নম্বর ইউনিট থেকেই ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তৃতীয় ইউনিট সচল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, তৃতীয় ইউনিট পুনরায় চালু হওয়ায় কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

জানা যায়, ২০১৭ সালে চালু হওয়া ৩ নম্বর ইউনিটটি প্রায় আট বছর সচল থাকার পর ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। মেরামতের পর পর চলতি বছরের ২০ মে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হলেও উৎপাদন শুরুর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আবারও সেটি অচল হয়ে পড়ে। ফলে ২৫ মে থেকে ৩ নম্বর ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ২৯ দিন  মেরামতের পর গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় ৩ নম্বর ইউনিটে।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, কয়লাখনির কোল ইয়ার্ড-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করা কয়লা বিকল্প স্থানে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা বাজারে বিক্রির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিট চালু হওয়ায় সেখানে খনির কয়লার ব্যবহার বাড়বে, এতে খনির কয়লার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।