ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি গুদামের ছাদ ধসে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এখনও অন্তত ১৮ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গুদামটিতে কয়েক ডজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ছাদ ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
দুপুর ১২টার কিছু পর দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থাও উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের জানান, এ পর্যন্ত ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও প্রায় ১৮ জন আটকা রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকারীরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন।
উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। ফলে জীবিতদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।
উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে একাধিক ভারী ক্রেন মোতায়েন করা হয়েছে। ৫০ টন ধারণক্ষমতার হাইড্রোলিক ক্রেন ব্যবহার করে ধসে পড়া কাঠামো স্থিতিশীল রাখা হচ্ছে, যাতে নতুন করে কোনো অংশ ভেঙে না পড়ে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট আয়তনের গুদামটির অভ্যন্তরে কোনো বিভাজন দেয়াল ছিল না। ফলে পুরো ছাদ একসঙ্গে ধসে পড়ে। অতিরিক্ত চাপের কারণে বিভিন্ন স্থানে লোহার বিমও বেঁকে গেছে।
উদ্ধারকারীরা প্রথমে ধ্বংসস্তূপের পেছন দিক দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলেও সফল হননি। পরে হাইড্রোলিক মই ব্যবহার করে ওপর থেকে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে কাঠামোর বিভিন্ন অংশে ছিদ্র করে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা এবং আটকে পড়াদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে পুলিশ স্নিফার ডগ ব্যবহার করছে। স্থানীয়দের দাবি, এখনও বেশ কয়েকজন শ্রমিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা।
রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য বড় জেনারেটর এনে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার জন্য একটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ রাজ্যের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। সেখানে কলকাতা পুলিশের কমিশনার, পুরসভার কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বন্দর কর্তৃপক্ষের জমিতে একটি চা কোম্পানির জন্য গুদামটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। প্রায় দেড় বছর ধরে এর নির্মাণকাজ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার আগে থেকেই কাঠামোতে অস্বাভাবিক নড়াচড়া দেখা যাচ্ছিল। বিষয়টি পরীক্ষা করতে কয়েকজন শ্রমিক উপরে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো ছাদ ধসে পড়ে।
দুর্ঘটনার সময় সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে স্থানীয়দের ধারণা। গুদামটির ঠিকাদারও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।