পাকিস্তানি গুপ্তচর সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গে আরও ৪ জন গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ২১:২৩

পাকিস্তানি গুপ্তচর সন্দেহে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এর মধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে কোচবিহার থেকে। অন্য একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেঙ্গালুরু থেকে, কর্ণাটক পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেঙ্গালুরু থেকে ধৃত যুবকের নাম আশরাফুল মালিক। তার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থানার যশাইকাটি-আটঘরা গ্রাম পঞ্চায়েতের নোয়াপাড়ায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সক্রিয় সদস্য বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন রশিদুল হক, শফিকুল ইসলাম ও নূর নাসিরউদ্দিন আলী। এদের মধ্যে শফিকুল ইসলামের বাড়ি বিহারের কিশনগঞ্জে। এসটিএফ সূত্রের দাবি, এই তিনজন পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সিম কার্ড বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জাল নোটের কারবার এবং বাংলাদেশে অবৈধ চোরাচালানের সঙ্গেও যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত চলছে।

আশরাফুল মালিকের গ্রামের বাসিন্দারা তাকে ভালো ও ভদ্র ছেলে বলেই চিনতেন। স্থানীয় একজন বলেন, এলাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ কখনো শুনিনি। সবসময় পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। তারা শুনেছেন, আশরাফুল বেঙ্গালুরুর একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। সেখান থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তবে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই।

আশরাফুলের মা হাফিজা বিবি জানান, তার ছেলে বেঙ্গালুরুতে একটি কোম্পানিতে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। সেখান থেকেই পুলিশ ফোন করে গ্রেফতারের খবর জানিয়েছে।

কয়েকদিন আগেও পাকিস্তানি গুপ্তচর সন্দেহে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরপর এমন কয়েকটি গ্রেফতারের ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না, অভিযোগগুলো কতটা সত্য এবং তাদের কার্যক্রমের পরিধি কতদূর, এসব বিষয় এখন খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।

ইত্তেফাক/এবিএস