বর্তমানে বৈশ্বিক সংঘাত প্রতিরোধে পারমাণবিক অস্ত্রই একমাত্র কার্যকর উপায় বলে মনে করছে রাশিয়া। বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কার মধ্যে আজ বুধবার এমন মন্তব্য করেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
মস্কোতে এক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক ফোরামে পেসকভ বলেন, ‘বিশ্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। বাস্তবে পারমাণবিক প্রতিরোধ ছাড়া এখন পৃথিবীতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এটিই একমাত্র বিষয়, যা বিশ্বকে একটি বৈশ্বিক সংঘাতের হাত থেকে রক্ষা করছে।’
পেসকভ আরও বলেন, ‘প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে ভবিষ্যতে এমন নতুন ধরনের অ-পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি হতে পারে, যেগুলোর ধ্বংসক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।’
ইউক্রেনে চলমান চার বছরের সামরিক অভিযানের সময় একাধিকবার পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসঙ্গ তুলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো মস্কোর বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীন পারমাণবিক হুমকি প্রদানের অভিযোগ করেছে।
পুতিনের এমন আচরণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন একটি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। যদিও চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক ছোট, তবুও তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বেইজিং প্রকাশ্যে এ ধরনের চাপ প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার অবস্থান হলো নতুন কোনো চুক্তিতে যদি চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকেও এর আওতায় আনতে হবে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বশেষ কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তির ওপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাগুলোও উঠে গেছে।
এখন পর্যন্ত চুক্তিটি নবায়ন বা এর বিকল্প কোনো নতুন সমঝোতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তবে নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যখন পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন সীমিত রাখার কোনো কার্যকর আন্তর্জাতিক চুক্তি বলবৎ নেই।
২০১০ সালে স্বাক্ষরিত নিউ স্টার্ট ছিল স্নায়ু যুদ্ধ-পরবর্তী অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার শেষ গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। এর আওতায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি মোতায়েনযোগ্য পারমাণবিক ওয়ারহেড রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল।