দেশের প্রথম উপগ্রহ ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ থেকে গত পাঁচ অর্থবছরে মোট ১৬৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে। এই সময়ে স্যাটেলাইটটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বমোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৭৬৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
সংসদে উপস্থাপিত বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)-এর আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে স্যাটেলাইটটি থেকে ৮৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়। পরের ২০২১-২২ অর্থবছরে মুনাফা ছিল ৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা নিট লোকসান দেখায় সংস্থাটি। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৯ কোটি ৬৪ লাখ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জিত হয়।
২০২২-২৩ অর্থবছরে লোকসানের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী জানান, ওই বছরের ৩০ জুন স্যাটেলাইটের সম্পত্তি বিএসসিএল-এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরিত হয়। ফলে ওই সময় থেকে হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়ায় ‘অবচয়মূল্য’ (Depreciation) অন্তর্ভুক্ত করার কারণে কাগজে-কলমে লোকসান দেখা দিলেও পরবর্তী বছরগুলোতে সংস্থাটি আবার মুনাফায় ফিরেছে।
বর্তমানে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার, ডিটিএইচ (DTH) ও ভি-স্যাট সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়াও বিদেশে ব্যান্ডউইথ বিক্রি এবং জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানের মাধ্যমে এটি অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-২’ মূলত একটি ‘আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট’ বা পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ হিসেবে তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য সম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সমুদ্রসীমায় জাহাজের অবস্থান শনাক্তকরণসহ সামগ্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্পটি যেন ফলপ্রসূ হয়, সে জন্য বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি নতুন সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বের তিনটি স্বনামধন্য স্যাটেলাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের প্রস্তাবনাগুলো বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ফলাফল পাওয়ার পরই এই প্রকল্পের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি নথিপত্রে এই উপগ্রহের নাম ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’-এর পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। মন্ত্রীও তার জবাবে এই নতুন নাম ব্যবহার করেন।