কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে শেই হোপ, কাইরেন পাওয়েলের মারকুটে ব্যাটিং দেখে অনেকের কপালে ভাঁজ পড়েছিল। সময় যত গড়িয়েছে উইকেটের চালচিত্র সবার কাছেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। রানপ্রসবা হিসেবে বিকেএসপির তিন নম্বর উইকেটের খ্যাতিটা নতুন নয়। গতকালও ব্যতিক্রম হয়নি। উইকেট যেন ব্যাটসম্যানদের ইচ্ছেমতির খেল হয়েই দেখা দিয়েছিল। বল আসছে, ব্যাটের তোড়ে উড়ে আছড়ে পড়ছে বাউন্ডারির বাইরে। এটি নিয়মিত দৃশ্যই ছিল গতকাল বিকেএসপিতে।
বরাবরের মতোই ব্যাটসম্যানরা কচুকাটা করেছেন বোলারদের। রানউত্সবে অংশগ্রহণ ছিল দুদলের ব্যাটসম্যানদেরই। ওয়ানডে সিরিজের আগে আদর্শ ব্যাটিং অনুশীলনে তৃপ্ত থাকবে দুই দল। তবে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির জায়গা প্রায় তিন মাস পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে নেমেই স্বভাবসুলভ স্ট্রোক প্লে ইনিংস খেলেছেন তামিম ইকবাল। ব্যাটিংয়ের নান্দনিক রূপটা তুলে ধরেছেন সৌম্য সরকারও। দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানই সেঞ্চুরি করেছেন। মাতিয়েছেন বিকেএসপি।
রান মিছিলের প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের স্বস্তি অবশ্য বিসিবি একাদশই পেয়েছে। ডিএল মেথডে ৫১ রানে জয় পেয়েছে বিসিবি একাদশ। প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আট উইকেটে ৩৩১ রান করে। জবাবে বিসিবি একাদশ ৪১ ওভারে ছয় উইকেটে ৩১৪ রান তুলতেই আম্পায়াররা আলোর স্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ করে দেন। পরে ডিএল মেথডে জয়ী ঘোষণা করা হয় বিসিবি একাদশকে।
প্রস্তুতি বলতে যা বোঝায় তার সবটুকুই সম্পন্ন হয়েছে। বিকেএসপি থেকে তামিম-সৌম্যরা যেমন রানের ছন্দ নিয়ে ফিরেছেন, বোলিংয়ে মাশরাফি-রুবেলরাও অনুশীলন সেরেছেন। ৮ ওভার বোলিং করে ১ মেডেনসহ ৩৭ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক। ১০ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন রুবেল। নাজমুল অপুও ২ উইকেট নিয়েছেন ৬১ রানে। শেষ বেলায় ১৮ বলে ২২ রান করে ব্যাটিংটাও ঝালিয়ে নিয়েছেন মাশরাফি। এমন দিনে ইনিংস বড় করতে পারেননি ইমরুল (২৭), মিঠুন (৫), আরিফুলরা (২১)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ৩৩২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৮১ রানে ইমরুলের উইকেট হারায় বিসিবি একাদশ। দ্বিতীয় উইকেটে ১১৪ রানের জুটি গড়েন তামিম-সৌম্য। ইনিংসের শুরু থেকেই বেধড়ক পিটিয়েছেন তামিম। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দারুণ সব শট। প্রায় তিন মাস ম্যাচের বাইরে থাকার অস্বস্তিটা নিশ্চিতভাবেই কেটে গেছে এই বাঁহাতি ওপেনারের। ৭০ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। স্ট্যাম্পড হওয়ার আগে ৭৩ বলে ১০৭ রান করেন। একপ্রান্ত আগলে খেলেছেন সৌম্য। এই মাঠে ঠিক আগের ম্যাচেও জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।
সেই ফর্মটাই যেন কাল আবারো তার ব্যাটে ফিরে এলো। ২৬৫ রানে ছয় উইকেট পতনের পর ৪৯ রানের জুটি গড়েন মাশরাফির সঙ্গে। ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে মারা দৃষ্টিনন্দন ছক্কায় সৌম্য পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। ৮৩ বলে ৭টি চার ও ৬টি ছক্কায় অপরাজিত ১০৩ রান করেন তিনি।
এর আগে ১০১ রানের ওপেনিং জুটি গড়ে উইন্ডিজদের ভালো শুরু এনে দেন কাইরেন পাওয়েল ও শেই হোপ। তারপর ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিং অনুশীলনটা খারাপ হয়নি। হোপ ৮১, পাওয়েল ৪৩, চেজ ৫১ বলে অপরাজিত ৬৫, অ্যালেন ৪৮, হেটমায়ার ৩৩, ড্যারেন ব্র্যাভো ২৪, আমব্রিস অপরাজিত ১০ রান করেন। বিসিবি একাদশের পক্ষে রুবেল, মেহেদী হাসান রানা, নাজমুল অপু দুটি করে উইকেট পান। মাশরাফি, শামীম পাটোয়ারি একটি করে উইকেট পান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান্স: ৩৩১/৮, ৫০ ওভার
বিসিবি একাদশ: ৩১৪/৬, ৪১ ওভার
ফল: বিসিবি একাদশ ৫১ রানে জয়ী (ডিএল)