গ্রুপের সব ম্যাচে ভিনির গোল, দিচ্ছে ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে একটি সোনালী পরিসংখ্যান রয়েছে সেলেসাওদের হয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে যিনিই গোলেন দেখা পেয়েছেন, দিনশেষে তার হাতেই উঠেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ মর্যাদার সোনালী ট্রফি। অতীতে জাইরজিনিও, রোমারিও, রোনালদো নাজারিও কিংবা রিভালদোর মতো কিংবদন্তিরা এই অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিলেন।

উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপে এবার যেন সেই চেনা পথেই ছুটছেন রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান পোস্টার বয় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গ্রুপ পর্বের টানা ৩ ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে এই ফুটবল তারকা এখন ব্রাজিলকে হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।

ফুটবলের পরিসংখ্যানের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, ১৯৭০ বিশ্বকাপে জাইরজিনিও, ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রোমারিও এবং ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে রোনালদো ও রিভালদো গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচের সবকটিতেই টানা গোল করার অনন্য নজির স্থাপন করেছিলেন। আর কাকতালীয়ভাবে, প্রতিবারই টুর্নামেন্ট শেষে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল সাম্বার দেশ ব্রাজিল।

ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যানের সেই চেনা সমীকরণ যদি এবারও মিলে যায়, তবে চলতি বিশ্বকাপে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের এই অতিমানবীয় ধারাবাহিকতা ব্রাজিলের ঘরে আরও একটি বিশ্বকাপ ট্রফি আসারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এবারের আসরে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ থেকেই দুর্দান্ত ও নান্দনিক ফুটবলের পসরা সাজিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। আফ্রিকার পরাশক্তি মরক্কোর বিপক্ষে ড্র হওয়া ম্যাচে দলের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেছিলেন তিনি। এরপরের ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে দাপুটে জয়েও স্কোরশিটে নাম তোলেন ব্রাজিলের এই তারকা উইঙ্গার। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগকে একাই গুঁড়িয়ে দিয়ে দুই-দুইবার জালের দেখা পান তিনি। এর ফলে ৩ ম্যাচ শেষে নিজের ঝুলিতে মোট ৪টি গোল পুরে নিলেন ভিনি।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে ৪টি গোল করা মাত্র চতুর্থ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে এখন ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন ভিনিসিয়ুস। তার আগে কেবল ১৯৭০ বিশ্বকাপে জাইরজিনিও, ২০০২ বিশ্বকাপে ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো এবং ২০১৪ সালে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে নেইমার জুনিয়র এই অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়তে পেরেছিলেন।

ব্রাজিলের তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে ১৯৭০ সালে জাইরজিনিও চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং ইংল্যান্ড ও রোমানিয়ার বিপক্ষে একটি করে গোল করেছিলেন। ২০০২ সালে রোনালদো তুরস্ক ও চীনের বিপক্ষে একটি করে এবং কোস্টারিকার বিপক্ষে দুটি গোল করেন। অন্যদিকে ২০১৪ বিশ্বকাপে নেইমার ক্রোয়েশিয়া ও ক্যামেরুনের বিপক্ষে দুটি করে গোল করেছিলেন। শুধু মেক্সিকোর বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে স্কোরশিটে নাম তুলতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড।

ভিনিসিয়ুসের সামনে এখন আরও বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে। কারণ গ্রুপ পর্বে চার গোল করলেও জাইরজিনিও বিশ্বকাপ শেষ করেছিলেন সাত গোল নিয়ে, আর ২০০২ সালে আট গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন রোনালদো। নেইমার অবশ্য ২০১৪ সালের পর বিশ্বকাপে আর কোনো গোল যোগ করতে পারেননি।

চলমান এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণের মূল কাণ্ডারি ও প্রধান অস্ত্র হয়ে ওঠা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এখন শতভাগ আত্মবিশ্বাস নিয়ে নকআউট পর্বে পা রাখছেন। বর্তমানের এই বিধ্বংসী ফর্ম যদি তিনি টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেন, তবে শুধু ব্রাজিলের সাবেকি কিংবদন্তিদের পাশে নাম লেখানোই নয়, বরং গোলসংখ্যায় তাদেরও ছাড়িয়ে গিয়ে ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন মহাকাব্য রচনার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের এই তরুণ তারকার সামনে।