প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এ-সংক্রান্ত অপপ্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা তারা সারা জীবন মনে রাখবে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রীয় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে বা এ কাজে সম্পৃক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এ ধরনের খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন। কেউ যদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবি করে, তাহলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যিনি নিজের সন্তানকে নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে আস্থা পান না, তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নৈতিক যোগ্যতা হারান। তাই সবাইকে নিজ প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে চান। সরকার নৈতিক ও আদর্শবান নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সভায় আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পরীক্ষাকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইলিয়াস আহমেদ, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।