আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর এবার তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরান যদি ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা অব্যাহত রাখে, তবে যেকোনো সহিংসতার জবাব সহিংসতার মাধ্যমেই দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জেডি ভ্যান্স বলেন, “ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং আমরা সেটিকে সম্মান জানিয়েছি। চুক্তির ব্যাপারে তাদের কোনো দ্বিমত থাকলে তারা খুব সহজেই টেলিফোনে আমাদের কিংবা মধ্যস্থতাকারীদের জানাতে পারত; কিন্তু সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যেকোনো সহিংসতার জবাব আমরা সহিংসতার মাধ্যমেই দেবো।”
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজগুলো থেকে সম্প্রতি টোল আদায়ের ঘোষণা দেয় ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, হরমুজ ব্যবহার করতে হলে বিদেশি জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানের হরমুজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
এরই জেরে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ওমান উপকূল ধরে যাওয়ার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এভার লাভলি’ ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেওয়ায় সেটিতে বিস্ফোরক ড্রোন হামলা চালায় ইরানের অভিজাত বাহিনী আইআরজিসি।
এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ডিপো ও রাডার সিস্টেমে বড় ধরনের হামলা চালায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)।
মার্কিন বাহিনীর এই হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করে বিবৃতি দেয় আইআরজিসি। মার্কিন হামলাকে ‘উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, “হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখন থেকে পুরোপুরি ইরানের মর্জির ওপর নির্ভর করবে। ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার জবাব হবে আরও ব্যাপক এবং কঠিন।”
আইআরজিসির এই অনড় অবস্থান এবং মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পরই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এই কঠোর ও সরাসরি সামরিক হুঁশিয়ারি দিলেন।
সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি