ইরানি হামলার ভয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি ইসরায়েলে সরানোর পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ১৩:১৮

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের জবাবে ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ঘাঁটি ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাহরাইনে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নৌঘাঁটি সংস্কারের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে কুয়েত ও সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনা হতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, পরিস্থিতি বিবেচনায় ওয়াশিংটন চাইলে এই অঞ্চলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ইসরায়েলে স্থানান্তর করতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরটি বারবার আক্রান্ত হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানি হামলায় মার্কিন কমান্ড সদর দপ্তরসহ আরও অন্তত এক ডজন স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর (পেন্টাগন) এখন পর্যন্ত এই ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

এদিকে চলমান এই যুদ্ধ নিয়ে খোদ মার্কিন নাগরিকদের মনে তীব্র অসন্তোষ ও সংশয় দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে, যা ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) নামে পরিচিত। এই চুক্তি অনুযায়ী, স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

এই সমঝোতার পর যুক্তরাষ্ট্রের কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশব্যাপী পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটারই মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সামরিক পদক্ষেপ মোটেও লাভজনক হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ইরানি হুমকি দূর করতে’ এই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করাই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

তবে কুইনিপিয়াকের জরিপ বলছে, চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির কারণে লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে জনগণের মনে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, এই চুক্তির পরও ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সম্ভাবনা পুরোপুরি রয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ইস্যুতে মার্কিন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান— উভয় শিবিরের সমর্থকদের মধ্যেই কোনো মতভেদ নেই; সবাই মনে করছেন ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

ইত্তেফাক/আইএ