একের পর এক জটিলতায় থমকে আছে মিরসরাই বিসিক শিল্প নগরীর পথচলা। নানা সংকট কাটিয়ে প্লট নির্মাণ, বৈদ্যুতিক লাইনসহ অবকাঠামোগত স্থাপনা নির্মাণের পরও আলোর মুখ দেখছে না প্রকল্পটি। প্রায় ১ বছর আগে উদ্বোধনের মতো যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও এখনো ঝুলে আছে প্লট বরাদ্দসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া।
জানা যায়, ২০০৯ সালে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মিরসরাইয়ে ওই বিসিক নগরী বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মিরসরাই পৌরসভার পূর্ব মঘাদিয়া মৌজায় তালবাড়িয়া রেলস্টেশন এলাকায় জায়গা নির্ধারণ করে ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের জন্য ১৫ দশমিক ৩২ একর জমির অধিগ্রহণ করে মাটি ভরাট কাজও শুরু করা হয়। প্রথম অবস্থায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। পরে তা বাড়িয়ে ২৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা করা হয়। ২০১৩ সালের শেষ দিকে প্রকল্প কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সর্বশেষ ২০১৭ সালের শেষ দিকে মিরসরাই বিসিক শিল্প নগরীর সামগ্রিক প্রস্তুতি শেষ হলেও এখনো পর্যন্ত প্লট বরাদ্দই দিতে পরেনি বিসিক কর্তৃপক্ষ।
বিসিক চট্টগ্রামের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এটিএম হামিদুল হক চৌধুরী জানান, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় পিসিআর (প্রজেক্ট কম্লিশন রিপোর্ট) মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। মিরসরাই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) কৃষ্ণ কুমার আচার্য ইতোমধ্যে অবসরগ্রহণ করেছেন। শিল্পনগরী কর্মকর্তা শ্যামলী সাহাকে এই প্রকল্পের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
হামিদুল হক চৌধুরী আরো বলেন, এই প্রকল্পে এ ক্যাটাগরীতে ২৭টি, বি ক্যাটাগরীতে ৩৩টি, এস টাইপ ক্যাটাগরীতে ২৮সহ মোট ৮৮টি প্লট রয়েছে। এসব প্লট বরাদ্দ পেতে প্রায় ১০০টি আবেদন রয়েছে। কবে নাগাদ প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে এ বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। বিসিক, চট্টগ্রামের প্রকৌশলী আবদুল কাদের জানান, মিরসরাই প্রকল্পে বিদ্যুতের লাইন স্থাপন হয়েছে অনেক আগে। এখনো পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া যায়নি।
এদিকে, নানা জটিলতায় ১০ বছরেও এই প্রকল্প আলোর মুখ না দেখায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন বিসিক শিল্প নগরীতে প্লট পেতে আগ্রহীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্লট বরাদ্দ পেতে একাধিক আবেদনকারী জানান, শুরু থেকেই নানা প্রকার রশি টানাটানির কারণে এই প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। সরকার যেখানে শিল্প-কারখানা স্থাপনে জোর দিচ্ছে, সেখানে এই প্রকল্পটি কেন বার বার হোঁচট খাচ্ছে বোধগম্য নয়। তাদের দাবী বিসিক কর্তৃপক্ষের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে প্লট বরাদ্দের মাধ্যেমে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হোক।