পুরুষ ফুটবলে স্টেফানির বাঁশি

স্পোর্টস ডেস্ক

ফরাসি রেফারি স্টেফানি ফ্র্যাপার্টের জন্য ব্যাপারটা নতুন নয়। প্রায় এক বছর হতে চলল ইউরোপিয় ফুটবলে রেফারিং করছেন এই নারী রেফারি। গেল এপ্রিলেই অভিষেক হলো তার। গত মাসে নারী বিশ্বকাপের ফাইনালেও বাঁশি বাজিয়েছেন। তারপরই এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, উয়েফার সুপার কাপে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী লিভারপুল ও ইউরোপা কাপের সেরা চেলসির মধ্যকার এ সুপার কাপটি গতকাল বুধবার রাতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে স্টেফানির বাঁশিতেই পরিচালিত হয়। ইউরোপিয় ফুটবলের চিত্তাকর্ষক এই ফাইনালটি ছিল প্রায় পুরোটাই নারী রেফারিংয়ে সম্পন্ন হওয়া। কেননা স্টেফানির বিশ্বকাপ সহযোগী ইতালির ম্যানুয়েলা নিকোলোসি ও আয়ারল্যান্ডের মিশেল ও’নিল ছিলেন মাঠের ধারের দায়িত্বে থেকে তাকে সহযোগিতা করার জন্য। তুরস্কের পুরুষ রেফারি চুনেইত চাকির ছিলেন কেবল চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে।

স্টেফানি খেলাটির প্রাক্কালে ইস্তাম্বুলে রিপোর্টারদের জানান যে, সর্বশেষ বড়ো দায়িত্বগুলো সামলানোর কারণে তিনি বাড়তি চাপ অনুভব করছিলেন না। ৩৫ বছরের এই রেফারি বলেন, ‘আমাদেরকে শারীরিকভাবে, টেকনিক্যালি ও ট্যাকটিক্যালি কেবল প্রমাণ করা লাগে যে আমরাও পুরুষদের মতোই। এ নিয়ে আমি ভীত নই। আমার জন্য কিছুই বদলায়নি।’

নারী রেফারি দিয়ে পুরুষদের খেলা চালানোর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান উভয় দলের কোচ। চেলসির ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড এটাকে অভিহিত করেন, ‘একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত যা সঠিক দিকে আরো এক ধাপ অগ্রগতি।’ ল্যাম্পার্ড অবশ্য মনে করেন, ‘ফুটবল সব জায়গাতেই মন্থর’। বিশেষ করে যখন নারীদের খেলাটিকে এগিয়ে নেয়ার প্রশ্ন ওঠে। তবুও ল্যাম্পার্ডের মতে এটা ভালো যে, ‘গতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে’।

লিভারপুলের য়ুর্গেন ক্লপ তুলনা টানেন জার্মানির বুন্দেশলিগার রেফারি বিবিয়ানা স্টেইনহসের সাথে। জার্মান ক্লপ বলেন, ‘অবশেষে, আমি মনে করি সময় এসেছে। নারী রেফারিদের সাথে আমার অনেক অভিজ্ঞতা আছে জার্মানিতে। বিবি স্টেইনহস এটা করছেন। এরপরও তাকে বিবেচনায় নিতে অনেক সময় লেগেছিল। ফুটবল পেশাদারদের তরফে নয়, বরং রেফারিদের তরফে প্রস্তুত হতে সময় লেগেছিল। ইত্যবসরে সে তো স্থিত হয়ে গেছে।’

বিবিয়ানার মতো স্টেফানিরও সুযোগ পেতে অনেক সময় লেগেছিল। প্রায় এক দশকের মতো নিচের লিগগুলোয় কাজ করার পর ২০১৭ সালে এসে সুযোগ পান বিবিয়ানা। স্টেফানিকেও অনেকদিন ফ্রান্সের নিচের লিগগুলোয় বাঁশি বাজিয়ে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল। এমনকি খেলোয়াড় ও কোচরা তাকে ফ্রান্সের লিগ টুতে অন্যতম সেরা রেফারি বলার পরও। আগামী বছর থেকে অবশ্য তিনি ফ্রান্সের লিগ ওয়ানে নিয়মিত বাঁশি বাজাবেন বলে কথা রয়েছে।

এর আগেই ফরাসি এই রেফারি নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে বাঁশি বাজিয়েছেন। তারপরই এলো উয়েফার সুপার কাপটি। ক্লপ যে খেলাটিকে বলছেন, ‘একটা খুবই, খুবই গুরুত্বপূর্ণ খেলা’। উয়েফার রেফারিং বিভাগের প্রধান রিকার্দো রোসেত্তি আশা করছেন স্টেফানি ও তার দল ‘বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার নারী রেফারিকে অনুপ্রাণিত করবেন’। —ডয়েচে ভেলে

একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত যা সঠিক দিকে আরো এক ধাপ অগ্রগতি।’ ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড

অবশেষে, আমি মনে করি সময় এসেছে। নারী রেফারিদের সঙ্গে আমার অনেক অভিজ্ঞতা আছে জার্মানিতে। বিবি স্টেইনহস এটা করছেন। এর পরও তাকে বিবেচনায় নিতে অনেক সময় লেগেছিল। ফুটবল পেশাদারদের তরফে নয়, বরং রেফারিদের তরফে প্রস্তুত হতে সময় লেগেছিল। ইত্যবসরে সে তো স্থিত হয়ে গেছে।’ য়ুর্গেন ক্লপ