ইরানের সাথে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করলেও, শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সাথে বৈঠক করেন। সেখানে ইরানের ওপর সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও, ট্রাম্প আপাতত সেই পথে হাঁটতে অনাগ্রহী। তার আশঙ্কা, বড় ধরনের সামরিক সংঘাত হলে দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক সমাধান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া আগামী ১৮ আগস্ট শেষ হতে যাওয়া ৬০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পরও আলোচনা চালিয়ে যেতে তিনি আগ্রহী।
উত্তেজনা প্রশমনে দুই দেশের মধ্যে ‘ডি-কনফ্লিকশন চ্যানেল’ সক্রিয় রয়েছে, যেখানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রতিনিধিরা যোগাযোগ বজায় রাখছেন। এদিকে, কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সাথে বৈঠক হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনার বিষয়টি ইরান ও কাতার অস্বীকার করেছে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরান সংলাপের পথেই থাকতে চায়, তবে আলোচনার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হলে তারা যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত। তিনি আরও দাবি করেন, অবরোধ শিথিল হওয়ার পর ইরান ইতিমধ্যে ৪ কোটির বেশি ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব ইরান ও ওমানের উল্লেখ করে গালিবাফ জানান, এই প্রণালিতে চলাচলের নিয়ম তারাই নির্ধারণ করবেন।
অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ইরানকে কোনো ধরনের টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না। এই বিষয়টি বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সমঝোতার অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফার একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান করা। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সমঝোতা থেকে শুরু থেকেই দূরত্ব বজায় রেখেছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে তাদের মূল লক্ষ্যগুলো পূরণ হয়নি।