নারীর মরদেহ থেকে চুরি হওয়া কানের দুল মিললো স্বর্ণের দোকানে 

রাজশাহীর তানোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারীর মরদেহ থেকে চুরি হওয়া কানের দুল অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে টিএইচও ডা. বারনাবাস হাসদাক ওই নারীর স্বজনদের কাছে কানের দুল হস্তান্তর করেন। এর আগে বুধবার রাতে স্থানীয় একটি জুয়েলার্সের দোকান থেকে দুলটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ১০টার মৃত ওই নারীর আত্মীয় স্বজনরা স্বর্ণ চুরিতে অভিযুক্ত হাসপাতালের কর্মচারী মালি (বাগান দেখাশোনা করা) রায়হান আলীকে ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. বারনাবাস হাসদাকের কাছে নিয়ে যান। এসময় গ্রামের লোকজনসহ পুলিশের উপস্থিতিতে মালি রায়হান আলী কানের দুল কুলে নিয়ে গোল্লাপাড়া বাজারের সন্ধ্যা জুয়েলার্সের মালিক বিশ্বনাথ ওরফে বিশুর কাছে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন। এসময় টিএইচও ডাক্তার বারনাবাস হাসদাক সকালে আসার কথা বলে পুলিশসহ সবাইকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

পরে বৃহস্পতিবার সকালে মৃত ওই নারীর স্বজনদের কাছে কানের দুল হস্তান্তর করা হয়।

তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. বারনাবাস হাসদাক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,

কানের দুল উদ্ধার করে মৃত গৃহবধূর আত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত হাসপাতাল কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তকে কাজে যোগ না দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, তানোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে থানা এক নারীর মরদেহ খুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওই হাসপাতালের মালি রায়হানের বিরুদ্ধে। পরে সিসিটিভি ফুটেজে এই ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়ে।

অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তানোর উপজেলার তালন্দ ইউপির সুখদেবপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী লিপি বেগম (৪২) প্রেশারজনিত কারণে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় আত্মীয়রা অটোভ্যান করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসারত অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। 

এসময় জরুরি বিভাগের বেডে থাকা ওই গৃহবধূর (লাশের) কান থেকে স্বর্ণের কানের দুল খুলে নেয় মালি রায়হান আলী। পরে লাশ নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পর ওই গৃহবধূর শাশুড়ি কানের গহনা রিং দেখতে না পেয়ে ওই গৃহবধূর বাবার বাড়ি মেডিকেলের পাশে আমশো গ্রামের আত্মীয়দেরকে বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানান। এসময় রাতেই গৃহবধূর আত্মীয়রা তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসককে বিষয়টি জানান এবং তারা হাসপাতালে কর্মচারী রায়হান আলীকে সন্দেহ করেন।