কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৪৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মারজুক আব্দুল্লাহ নামে এক যুবক। তবে আসামির তালিকায় আছে চার জন মৃত নেতার নাম। মারজুক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা। গত বৃহস্পতিবার বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি এই নালিশী মামলা করেন। বিচারক এস এম শরীয়ত উল্লাহ মামলাটি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার জানিয়েছেন, এই নালিশী মামলায় অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আসামির তালিকায় চার জন প্রয়াত নেতার নাম যুক্ত করায় অভিযোগের সত্যতা ও মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। মামলাটির আসামির তালিকায় অন্যান্যের মধ্যে আছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, সাবেক সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর প্রমুখ। এছাড়া আছে সিটির ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুন, ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম হাফিজুর রশিদ শিবলী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী হাওলাদারের নাম।
এর মধ্যে ২১২ নম্বর আসামি খন্দকার রেজাউর মারা গেছেন ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি। মারজুকের অভিযোগ, রেজাউর গত ১০ জুন নগরীর গড়িয়ারপার এলাকায় আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল করেছেন এবং সড়কে হাতবোমা ছুড়েছেন। মামলার ১৯৮ নম্বর আসামি আবুল ফারুকের মৃত্যু হয়েছে ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। আর ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর মারা যান ২২৫ নম্বর আসামি হাফিজুর রশিদ এবং একই বছরের ২৬ জুলাই মারা যান ১৯৫ নম্বর আসামি আলী হাওলাদার। তাদের বিরুদ্ধেও আনা হয়েছে ঐ মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ।
বরিশাল সিটির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাজীব হোসেন খান বলেছেন, ‘মারজুক নামের যে ব্যক্তি মামলাটি করেছেন তাকে বরিশালের সবাই মামলা ব্যবসায়ী বলে চেনেন। আগেও তিনি একটি মামলা করেছিলেন। এই মামলা যে ভুয়া সেটার বড় প্রমাণ আসামি চার জন মৃত। তারা কি কবর থেকে উঠে এসে বাদীর ওপর ককটেল নিক্ষেপ করেছেন? যারা মারা গেছেন প্রত্যেকের জানাজায় ছিলাম আমি।’
এসব বিষয়ে জানতে মামলার বাদী বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ক্লাব রোডের বাসিন্দা মারজুক আব্দুল্লাহ জানান, ‘সাক্ষীদের ভুল ইনফরমেশনের কারণে এমনটা হয়েছে।’
বরিশাল আদালতের সিনিয়র আইনজীবী মেহেদী হাসান বললেন, তদন্তে মামলার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালত ব্যবস্থা নিতে পারে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ মে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমুসহ ২৪৭ জনের নামে জুলাইয়ের মামলা করেছিলেন মারজুক। সে সময় বৈষম্যবিরোধীর নেতারাই সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার পদ স্থগিত করে সংগঠনটির জেলা কমিটি।