ব্যবসায়ীর অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়, ভিডিও ভাইরাল

বরিশালে অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী আজিজ আদালতে নালিশি মামলা করেন।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আব্দুল আজিজের কক্ষে চারজন যুবক ঢুকে পড়েন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামের এক যুবক আজিজকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। মারধরের সময়ে আজিজ ‘বাচ্চু-বাচ্চু’ বলে একজনকে ডাকাডাকি করেন। ডাক শুনে আরেক ব্যক্তি কক্ষের মধ্যে ঢুকলে লিটুর সঙ্গীরা ধাক্কাধাক্কি করে তাকে বের করে দেন। পরে চেক ও স্ট্যাম্প হস্তান্তরের ছবি তোলা হয়।

এ ঘটনার বিষয়ে আব্দুল আজিজ অভিযোগ করে বলেন, লিটু এক সময় আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। তার বিনিয়োগের বিপরীতে জমি নিয়ে বিক্রি করেছেন। প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা পাওনা নাই এমন অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছে। তারপরও লিটু তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করেছে। জোর করে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং সাদা দুটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

তিনি জানান, ঘটনার পর পরই তিনি ব্যাংকে অভিযোগ দিয়ে রাখায় টাকা তুলে নিতে পারেনি। বৃহস্পতিবার নালিশি মামলাটি এফআইআরভুক্ত করতে আদালত কোতোয়ালী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। 

অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু পাল্টা অভিযোগ করে জানান, ঘটনার দিন যারা গিয়েছিলেন তারা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। আজিজ সকলের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পরিচালকরা সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ থানায় এসে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।