ভায়াগ্রা ব্যবহারের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন ইংল্যান্ডের কোচ

মেক্সিকোর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের শেষ ১৬–এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে উচ্চতার সমস্যা এড়াতে ভায়াগ্রা ব্যবহারের খবরটিকে গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। এই উচ্চতায় পাতলা বাতাসে খেলতে হওয়ায় ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা চলছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ১৯৬৬ এর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। শেষ ১৬-এর এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে এস্তাদিও অ্যাজটেকায়, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। 

এমন পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছিল, উচ্চতাজনিত ক্লান্তি কমাতে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা ভায়াগ্রা ব্যবহার করতে পারেন। তবে দলের প্রধান কোচ টমাস টুখেল এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য বা পরামর্শ আমার কাছে আসেনি। বিষয়টি সত্য নয়।’

ভায়াগ্রা মূলত উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হলেও পরে এটি পুরুষদের ইরেকটাইল ডিসফাংশনের (পুরুষাঙ্গের উত্থানজনিত সমস্যা) ওষুধ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পায়। ওষুধটি ফুসফুসের রক্তনালিকে প্রসারিত করে এবং রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে উচ্চতায়, যেখানে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকে, সেখানে এটি কিছু ক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাসের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

উচ্চতায় বাতাস পাতলা হওয়ায় প্রতিটি শ্বাসে শরীরে কম অক্সিজেন প্রবেশ করে। এর ফলে হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে যায়, দ্রুত ক্লান্তি আসে, পানিশূন্যতা দেখা দেয় এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে।

কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ভায়াগ্রা যেহেতু ফুসফুসের রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, তাই উচ্চতার প্রভাব মোকাবিলায় ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের এটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির (ডব্লিউএডিএ) নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায় ভায়াগ্রা নেই। ফলে নিয়ম অনুযায়ী এটি ব্যবহারে বাধা না থাকলেও ইংল্যান্ড শিবির এমন কোনো পরিকল্পনার কথা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।

মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য কঠিন লড়াইয়ের প্রত্যাশাই করছে ইংল্যান্ড। শেষ ষোলোতে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও হ্যারি কেনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল ইংল্যান্ড।

এর আগে গ্রুপ পর্বে ঘানার সঙ্গে ড্র এবং পানামার বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ও দেখিয়েছে যে ইংল্যান্ডকে এখনও নিজেদের সেরাটা খুঁজে পেতে হবে। সেই ম্যাচে জুড বেলিংহ্যাম এবং হ্যারি কেন গোল করেছিলেন।

এই ম্যাচের বিজয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল অথবা নরওয়ের মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি আগামী ১১ জুলাই মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।