সাভারে ককটেল বিস্ফোরণ প্রশাসনের ইন্ধনে ঘটেছে: দাবি নাহিদ ইসলামের

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ঘটা বোমা বিস্ফোরণের পেছনে প্রশাসনের সরাসরি হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষ্যে, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার অংশ।

সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড-সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে এনসিপির সমাবেশ চলাকালে বিস্ফোরণটি ঘটে। সে সময় মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী নাবিলা তাসনিদ। বিস্ফোরণের শব্দে উপস্থিত নেতাকর্মীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করলে নাবিলা তাসনিদ মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

ঘটনার কিছুক্ষণ পর রাত সোয়া ১০টার দিকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকের এই বোমা বিস্ফোরণ স্পষ্টভাবে প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। সমাবেশ চলাকালে কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হলো, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। আমাদের খুন করার পরিকল্পনা থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

গত আগস্টে সাভার থেকেই দলের কর্মসূচি সমাপ্ত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রশাসনের সহায়তায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে এই হামলার মাধ্যমে তাঁদের পদযাত্রা কর্মসূচি নস্যাৎ করার চেষ্টা হয়েছে। সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্দেশ করে তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার জবাবদিহি দাবি করেন।

আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতকরণ এবং সীমান্ত সুরক্ষা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবি আদায় পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।

পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, সভার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চান, কেন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেল এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কী ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি জানান, হামলায় দলের একাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এর দ্রুত বিচার দাবি করেন তিনি। বিচার নিশ্চিত না হলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন এনসিপির এই আহ্বায়ক।