শিশু গৃহকর্মীকে মারধর করায় বকুনি, অভিমানে স্ত্রীর আত্মহত্যা

রাজধানীর পূর্ব রামপুরার আবদুল্লাহবাগ মসজিদ এলাকার বাসা থেকে তাসলিমা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহকর্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, মঙ্গলবার রাতে শিশু গৃহকর্মীকে মারধর করেন তার স্ত্রী। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি স্ত্রীকে মৃদু বকুনি দিয়েছিলেন। এরপরই অভিমানে আত্মহত্যা করেন তাসলিমা।

রামপুরা থানার ওসি আবদুল কুদ্দুছ ফকির বলেন, ঘরের দরজা ভেঙে স্বজনরা ওই নারীর লাশ উদ্ধার করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে কেউ পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি। এমনকি মৃতের বাবার বাড়ির লোকরাও ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে পুলিশ।

মৃতের স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জানান, পোশাক কারখানার যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী সদরে। ঢাকায় আবদুল্লাহবাগের দোতলার বাসায় তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। এই বাসায় ৮/৯ বছর বয়সি এক শিশু গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে। মঙ্গলবার রাতে কোনো ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন তাসলিমা। এ সময় ছোট্ট মেয়েটিকে মারধর করায় তিনি স্ত্রীকে বকুনি দেন। এতে অভিমান করে তখনই নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন তাসলিমা। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। একপর্যায়ে তার দুই মেয়ে বলে, ‘মাকে কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকতে দাও বাবা, একটু পরই রাগ কমে যাবে।’ মেয়েদের পরামর্শই মেনে নেন তিনি। তবে দীর্ঘসময়েও স্ত্রী বের হয়ে না আসায় তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েন। এক পর্যায়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় স্ত্রীকে দেখতে পান তিনি। তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিত্সকরা জানান, আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।