জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রশি টানাটানি চলছে: জামায়াত নেতা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে যারা মুছে ফেলতে চায় তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ‘রশি টানাটানি’ চলছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এবি পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু লিখিত-কাগুজে বিষয় হয়েছে। আবার সেটাকেও মেনে নেওয়া বা না নেওয়ার জায়গায় রশি টানাটানি চলছে। এই রশি টানাটানির মধ্যে কার শক্তি বেশি, তা আগামীতে প্রমাণ হবে।’ তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে এবং দীর্ঘ আলোচনার পর যে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল, তা আজও বাস্তবে রূপ পায়নি। মৌলিক সংস্কারের অনেকগুলো অধ্যাদেশ সংসদে বাতিল হয়ে যাওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জামায়াতের এই নেতা সরকারকে সংবিধান ‘সংশোধন’ নয়, বরং ‘সংস্কার’ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব হয়েছে সংবিধান সংস্কারের জন্য। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে কাজ করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান সংশোধনের যে পথে সরকার হাঁটছে, তা জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীত এবং জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। অতীতে সংশোধনীগুলো আদালতে বাতিল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “জাতিকে বোকা বানানোর চেষ্টা করবেন না।”

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র কেন কায়েম হবে? তিনি দাবি করেন, সংসদ তখনই কার্যকর হয় যখন সরকারি ও বিরোধী দলের বক্তব্য সমন্বয় করে জনগণের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কিন্তু বর্তমান সংসদে অনেক সময় হালকা-পাতলা রসিকতায় ব্যয় হচ্ছে। তিনি বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিলুপ্ত করে জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পাশাপাশি যারা নির্দেশ ও মদদ দিয়েছে, তাদেরও বিচার দাবি করেন।

সংসদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যদি সংসদ সমস্যার সমাধান না করে, তবে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই সমাধান খুঁজতে হবে। সভায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু) সভাপতিত্ব করেন। এতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।