মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ওপর নির্ধারিত হামলা ও বোমাবর্ষণ আপাতত স্থগিত করেছেন। চলমান উত্তেজনা প্রশমন ও পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে দুই দিন টানা দুই দেশের মধ্যে হামলা ও পালটা হামলা চলছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানান, পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র সুপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে আবার তা স্থগিত রাখছে। তবে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা তারা প্রস্তুত রেখেছে। বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে রাতেও হামলার প্রস্তুতি ছিল, তবে বর্তমানে কূটনৈতিক সমাধানের ওপরই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। এর আগে আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে যে কোনো সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে যুদ্ধবিমানে অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত করা হয়। একই সঙ্গে পাইলটরা বিশেষ প্রশিক্ষণ মহড়া পরিচালনা করেন। রণতরির ক্যাপ্টেন জাহাজে থাকা হাজার হাজার নাবিককে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করেন এবং সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন।
হামলার প্রস্তুতির পাশাপাশি মার্কিন ফাইটার পাইলটরা দিন ও রাত জুড়ে নিয়মিত প্রতিরক্ষামূলক টহল অব্যাহত রেখেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, রাতে আরো বেশ কিছু মার্কিন হামলা হয়েছে বলে ইরান যে দাবি করেছে তা সঠিক নয়। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, ‘পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আবারও হামলা শুরু হতে পারে।’ মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসে জানায়, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলার মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে ইরানে নতুন করে কোনো হামলা করেনি যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখনো ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার কাতার ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে একাধিক দফায় টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল উভয় পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক আঞ্চলিক সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, ‘প্রথমে উভয় পক্ষকে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে সম্মত করানো এবং এরপর কারিগরি দলের পরবর্তী বৈঠকের তারিখ নির্ধারণের জন্য ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।’ এক মার্কিন কর্মকর্তা আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, সংঘাত চললেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ থেকে সরে আসেনি। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার আঙ্কারায় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি শেষ বলে তিনি মনে করেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংঘাতের অবসান ঘটানো ছাড়াও ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
গত ৮ জুলাই রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র অবস্থান এবং সামরিক লজিস্টিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। জবাবে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।