ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে এক আবেদনকারীর অকল্পনীয় ঔদ্ধত্য ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) শুনানি চলাকালে প্রবাল প্রতাপ নামের এক আবেদনকারী প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে গালিগালাজ করেন এবং আদালতকক্ষে কাগজপত্র ছুড়ে ফেলেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুরো আদালত চত্বরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সকাল ১১টার দিকে বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথন এবং অলোক আরাধের বেঞ্চে শুনানি শুরু হলে প্রবাল প্রতাপ নিজেকে ‘সার্বভৌম’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বেঞ্চের সামনে উপস্থিত হন। বিচারপতিদের ‘বিচারিক কর্মচারী’ বলে সম্বোধন করে তিনি লখনউয়ের এক পুলিশ কর্মকর্তার (এএসপি) বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিতে বলেন।
আবেদনকারীর এমন অদ্ভুত আচরণে বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথন বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করেন, “আপনি আমাদের আদেশ দিচ্ছেন?” এরপরই ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান বিচারপতিকে গালিগালাজ শুরু করেন এবং আদালতের নথিপত্র বাতাসে ছুড়ে ফেলেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে আদালতকক্ষ থেকে বের করে দেন এবং কিছু সময়ের জন্য ডিএসপির কার্যালয়ে আটক রাখেন।
আদালতের কার্যক্রমে চরম বিঘ্ন ঘটলেও বেঞ্চ ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মতো কঠোর কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিচারপতি বিশ্বনাথন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে চাই না। নথি পর্যালোচনায় তার আপিলটি খারিজ করা হলো। আমরা তার প্রতি সহানুভূতিশীল।”
ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্ট আর্গুইং কাউন্সেল অ্যাসোসিয়েশন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে একটি চিঠি লিখেছে। সংগঠনটি আদালত অবমাননাকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেছে, কিছু ইউটিউব চ্যানেল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদালতের কার্যক্রমের বাছাই করা ভিডিও ক্লিপ প্রচারের ফলে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই এই ধরনের হট্টগোলের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রাতিষ্ঠানিক হস্তক্ষেপ জরুরি।

