কানসাসের চড়া রোদ। মাঠের এক কোণে ফুটবল ছেড়ে দিয়ে হাতে টেনিস বল তুলে নিয়েছেন তিন দীর্ঘদেহী ফুটবলার—গ্রেগর কোবেল, ইভন এমভোগো ও মারভিন কেলার। তারা সুইজারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের তিন নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক।
ফুটবল বিশ্বকাপের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে সুইসদের অনুশীলনে এমন দৃশ্য দেখে যে কেউ কিছুটা চমকে যেতে পারেন। তবে সামনে যখন প্রতিপক্ষ হিসেবে আছেন লিওনেল মেসি আর বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, তখন প্রস্তুতিতে এমন অভিনবত্ব আসতেই পারে।
আগামী রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে সেমিফাইনালে ওঠার মহালড়াইয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে সুইজারল্যান্ড। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে সুইসরা। ৭২ বছর পর পাওয়া এই ঐতিহাসিক সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে রাজি নন তারা। আর তাই মেসি-ব্রিগেডের বুলেট গতির আচমকা শটগুলো রুখে দিতে টেনিস বলে অনুশীলন করার এই বিশেষ কৌশল বেছে নিয়েছেন সুইস গোলরক্ষক কোচ।
শুক্রবার কানসাসে সুইজারল্যান্ডের মূল দলের বাকি ফুটবলাররা যখন হালকা মেজাজে গা গরম করছিলেন, তখন তিন গোলরক্ষককে নিয়ে কড়া ঘাম ঝরাচ্ছিলেন কোচ। তাঁদের মূল কাজ ছিল টেনিস বল নিয়ে হাঁটা আর বাতাসে সেই বল জাগলিং করা।
ফুটবল মাঠে গোলরক্ষকদের রিফ্লেক্স বাড়ানোর জন্য টেনিস বলে অনুশীলন করার এই কৌশল অবশ্য নতুন কিছু নয়। বিশ্বমঞ্চে এই কৌশলের কার্যকারিতা আগেও প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৪ বিশ্বকাপে কোস্টারিকার গোলরক্ষক কেইলর নাভাস এই টেনিস বলের কৌশলটা বিশ্বমঞ্চে তুমুল জনপ্রিয় করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই টেনিস বলে অনুশীলন করা নাভাস সেবার কোস্টারিকাকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন এক অবিশ্বাস্য প্রাচীর হয়ে। টেনিস বলের ছোট আকার আর বাতাসের গতিপথ হুট করে বদলে যাওয়ার প্রবণতা গোলরক্ষকদের দৃষ্টিশক্তি ও রিফ্লেক্সকে আরও তীক্ষ্ণ করে তোলে।
সুইজারল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি গোলরক্ষক ইয়ান সোমারও এই কৌশলে অন্ধ ভরসা রাখতেন। পেনাল্টি স্পট থেকে কোচ র্যাকেট দিয়ে টেনিস বলে শট নিতেন, আর সোমার তা চোখের পলকে রুখে দিতেন। বর্তমান সুইস কোচও তার শিষ্যদের (কোবেল-এমভোগো) জন্য সেই একই পুরোনো ও কার্যকর টোটকা ব্যবহার করছেন। ছোট আকারের এই হলুদ বল চোখে ধরা দেয় দেরিতে। তাই এটি তালুবন্দী করতে ফুটবলারদের সময় ও সুযোগ—দুটিই থাকে খুব কম। নিখুঁত গ্রিপ আর দারুণ ক্ষিপ্রতা ছাড়া টেনিস বল আটকানো অসম্ভব।
আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের ফুটবলারদের গোলমুখে নেওয়া আচমকা ও তীব্র গতির শটগুলো সামলাতেই মূলত সুইসদের এই বিশেষ ফন্দি। দীর্ঘ ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ আটের মঞ্চে নামার আগে সুইস গোলরক্ষকদের এই বিশেষ প্রযুক্তি ও প্রস্তুতি মাঠের লড়াইয়ে কতটা কাজে দেয়, তা দেখার জন্য ফুটবল বিশ্বকে রোববার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।