সেপ্টেম্বরেই মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচ!

নিজেই অনেক দিন ধরে জানিয়ে রেখেছেন, আর খুব বেশি দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবেন না। টেস্ট ক্রিকেট খেলেন না ২০০৯ সাল থেকে। টি-টোয়েন্টিও ছেড়ে দিয়েছেন। এখন অপেক্ষা কেবল ওয়ানডে ক্রিকেটের শেষটা দেখার জন্য। মাশরাফি বিন মুর্তজা অবশ্য পরিষ্কার করেননি যে, তিনি কখন অবসর নেবেন। তবে তিনি রাজি থাকলে, এই সেপ্টেম্বরেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আয়োজিত হতে পারে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের এই বিদায়ী ম্যাচ। এমনটাই নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

২০০১ সালে অভিষেকের পর থেকে গত বিশ্বকাপ পর্যন্ত ২১৭টি ওয়ানডে খেলেছেন মাশরাফি। এর মধ্যে তার ক্যারিয়ারের লম্বা কিছু সময় কেড়ে নিয়েছে ইনজুরি। তাতে ম্যাচ ও উইকেটের সংখ্যা কমেছে। তারপরও বাংলাদেশের ক্রিকেটের সেরা বোলার হিসেবে সার্ভিস দিয়েছেন লম্বা সময়। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে সময়টা তার একদমই পক্ষে ছিল না। পুরো টুর্নামেন্টে পেয়েছেন একটি মাত্র উইকেট। আর সে সময়ই বিভিন্ন মাধ্যমে তার অবসরের গুঞ্জন বেড়ে যায়।

মাশরাফি নিজেও বিশ্বকাপের আগে-পরে বলেছেন খুব বেশি দিন আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবেন না। এখন তিনি একাধারে রাজনীতি নিয়েও খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইনজুরির জন্য শ্রীলঙ্কা সফরে যেতে পারেননি। সেই সময়ে নড়াইলের এই নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন নিজের এলাকার লোকেদের সঙ্গে।

এই অবস্থায় মাশরাফি অবসর নেওয়ার জন্য একটা বিশেষ ম্যাচ খেলতে চান কি না, সেটা বুঝতে চায় বিসিবি। গতকাল বোর্ডের পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলছিলেন, এটা মাশরাফির ইচ্ছার ওপরই ছেড়ে দিচ্ছেন তারা। মাশরাফি রাজি থাকলে একটা ম্যাচ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আয়োজন করা হতে পারে বলেও তিনি নিশ্চিত করলেন, ‘মাশরাফিকে আমরা ঘটা করেই বিদায় দিতে চাই। তবে খেলোয়াড় হিসেবে এখনো যেহেতু তার গুরুত্ব আছে, তাই আমরা জোর করতে চাই না। বলটা মাশরাফির কোর্টেই এখন। সে যদি এই সময়ে বিদায় নিতে চায়, তাহলে আমরা একটা ম্যাচ আয়োজন করতে পারি। এটুকু বলতে পারি, বিসিবির পক্ষ থেকে তাকে সম্মান দেখানোর ইচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই।’

তবে মাশরাফির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানাল, তার সঙ্গে বিসিবি এ বিষয়ে কোনো আলাপ করেনি। কোনো আলোচনা হলে মাশরাফি হয়তো তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন। জালাল ইউনুস বললেন, মাশরাফি সম্মতি না দিলে ম্যাচ আয়োজনের কথা ভাববে না বিসিবি, ‘ম্যাচটা আয়োজন তো অনেক টাকার ব্যাপার। মাশরাফির জন্য এই অর্থ ব্যয় করতে বিসিবি আনন্দের সঙ্গে রাজি। তবে মাশরাফি যদি এই সময়ে অবসর না নেয়, তাহলে ম্যাচ আয়োজন করাটা অর্থহীন হবে।’