ক্রিকেট বিশ্বে তার মতো দানবীয় ব্যাটসম্যান এর আগে আসেননি বললেই চলে। এবার অবসরের প্রশ্নে তিনি যেমন ‘নাটক’ করা শুরু করেছেন তাতে বলাই যায় যে, ক্রিস্টোফর হেনরি গেইলের মতো রহস্যময় ক্রিকেটার এখন ক্রিকেট বিশ্বে নেই বললেই চলে। তা না হলে কি আর বিদায়ি ম্যাচ খেলার পরই বলে দেন যে, এখনই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট থেকে বিদায় বলছেন না তিনি!
ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষটা দিয়ে গত বুধবার রাতেই গেইল কার্যত তার শেষ ওয়ানডে ম্যাচটা খেলে ফেলেছেন। সেটা স্মরণীয় করে রাখতেই ‘৩০১’ নম্বর জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এ সংখ্যাটা গেইলের খেলা ওয়ানডের সংখ্যা।
শুধু জার্সি দিয়েই নয়, ব্যাট হাতেও ম্যাচটা স্মরণীয় করেছেন গেইল। ৩৯ বছর বয়সি গেইল ব্যাট হাতে এদিন সেই কাজটাই করেছেন, যেটাতে তিনি সবচেয়ে বেশি পারদর্শী। ৪১ বলে খেলেছেন ৭২ রানের মারমুখী এক ইনিংস। ভারতীয় পেসার খলিল আহমেদের বলে আউট হওয়ার পর কুইন্স পার্ক ওভালের দর্শকরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছেন।
আউট হওয়ার পর স্বয়ং ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি এগিয়ে এসে গেইলের সঙ্গে ‘হাই ফাইভ’ করেছেন। ক্রিকেট মাঠে যেটা বিপক্ষ দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে ঘটা বিরল একটা দৃশ্য। এমনকি ম্যাচ শেষেও সংবাদ সম্মেলনে গেইলকে দারুণ একটা ক্যারিয়ারের ইতি টানার জন্য অভিনন্দন জানালেন।
তবে, এত আয়োজনে পানি ঢেলে দিলেন গেইল নিজেই। ছয় উইকেটের বড়ো পরাজয় বরণ করার পর গেইল ১০ সেকেন্ডের একটা ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, অবসরের কোনো ঘোষণাই এখন অবধি দেননি তিনি।
গেইল বলেন, ‘আমি অবসরের কোনো ঘোষণা দেইনি।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে তিনি আরো কিছু সময় থাকবেন কি না? —এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, যতক্ষণ না নতুন কিছু ভাবছি।’
তৃতীয় ওয়ানডেটাতে অবশ্য গেইলের সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছেন বিরাট কোহলি। ভারতীয় অধিনায়ক পেয়েছেন টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ভারত পেয়েছে ছয় উইকেটের বড়ো এক জয়।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলে প্রথম ১০ ওভারেই দলকে ১১৪ রানের সূচনা এনে দেন গেইল ও এভিন লুইস। এর মধ্যে গেইল পাঁচটি ছক্কা ও চারটি চারে ৩৩ বলে ৬৫ রান করেন। এই ১০ ওভারে ৮টি ছক্কা মারেন গেইল-লুইস। ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করে প্রথম ১০ ওভারে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড এটি। এ ছাড়া ২০১৫ সালের পর ওয়ানডেতে প্রথম ১০ ওভারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এটি।
লুইস ২৮ বলে ৪৩ রান করে যুজবেন্দ্র চাহালের বলে সাজঘরে ফেরেন। এর পর পরই বিদায় নেন গেইল। ৮টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৪১ বলে ৭২ রান করেন তিনি। ১২১ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের চাকা মন্থর হয়ে যায়। এ অবস্থায় ২২ ওভার শেষে বৃষ্টি নামলে এক ঘণ্টার বেশি খেলা বন্ধ থাকে। ফলে ম্যাচটি ৩৫ ওভারে নেমে আসে। তাতে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রানের বড়ো সংগ্রহ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
যদিও ডাকওয়ার্থ লুইস আইন অনুযায়ী ভারতের জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৫ ওভারে ২৫৫ রান। দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা খুব বেশিদূর এগোতে না পারলেও দলের রানের ধারা ধরে রাখেন কোহলি।
১৪টি চারে ৯৯ বলে অপরাজিত ১১৪ রান করেন কোহলি। ৩টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৪১ বলে ৬৫ রান করে আউট হন শ্রেয়াস আইয়ার। ম্যাচ সেরা ও সিরিজ সেরা—দুটো পুরস্কারই পেয়েছেন কোহলি।