ইস্তাম্বুলে আরেকটা ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ফাইনাল, আরেকটা পেনাল্টি শুট আউট শেষে আরেকটি সাফল্য রচনা করল লিভারপুল। গত বুধবার রাতে তুরস্কের শহরটিতে উয়েফা সুপার কাপের ফাইনালে চেলসিকে টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে হারিয়ে অল রেডদের শিরোপাজয় তাদের প্রায় ১৫ বছর আগের কার্বন কপি না হলেও তার চেয়ে কম কিছুও হয়নি।
লিভারপুল ২০০৪-০৫ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে সেবার এসি মিলানের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই তিন গোল হজম করে বসেছিল। পরে অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ড আর গোলরক্ষক দুদেকের বীরত্বে পেনাল্টি শুট আউটে জিতে ইতিহাস রচনা করে তত্কালীন কোচ রাফায়েল বেনিতেজের দল। এবার সুপার কাপের ফাইনালে অবশ্য শুরুতে তিন গোল হজম না করলেও পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করেছিল লিভারপুল। চেলসির হয়ে ৩৬ মিনিটে গোলটি করেছিলেন অলিভিয়ের জিরু।
বিরতির পর ৪৮ মিনিটে সাদিও মানে সমতা ফেরালেও নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল করতে পারেনি কোচ য়ুর্গেন ক্লপের দল। যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে ৯৫তম মিনিটে সাদিও মানে আবারও গোল করলে ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় তারা। এ অগ্রগামিতা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি লিভারপুল। ১০১তম মিনিটে বিতর্কিত এক পেনাল্টিতে চেলসির হয়ে সমতা ফেরান জর্জিনহো। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।
সেখানে লিভারপুলের হয়ে রবার্তো ফিরমিনো, ফ্যাবিনহো, দিভোক অরিগি, ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ড এবং মোহামেদ সালাহ গোল করেন। জবাবে কোচ ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের তারুণ্য নির্ভরতা ভালোই ফল দিচ্ছিল। জর্জিনহো, রোস বার্কলে, ম্যাসন মাউন্ট, এমারসন পালমিয়েরি লক্ষ্যেই বল রেখেছিলেন।
তবে শেষ পেনাল্টি নিতে আসা ট্যামি আব্রাহামের পেনাল্টি ঠেকিয়ে বীর বনে যান অ্যালিসন বেকারের অনুপস্থিতিতে লিভারপুল গোলমুখের দায়িত্বে আসা স্প্যানিশ গোলরক্ষক আদ্রিয়ান। ফলে চতুর্থ সুপার কাপ শিরোপা ঘরে তোলে অল রেডরা।
এদিকে প্রথম দল হিসেবে টানা তিনটি উয়েফা সুপার কাপ হারার বেদনায় পুড়ল চেলসি। চলতি বছরে টানা দ্বিতীয় ফাইনাল হারের কবলেও পড়ল দলটি। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে কারাবাও কাপের ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে পরাস্ত হয়েছিল তারা।