এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনভর আন্দোলন সত্ত্বেও বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগ ছাড়া অন্য সব বোর্ডে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক ফেসবুক পোস্টে সরকারের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় পরীক্ষার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, বিরূপ আবহাওয়ায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত কয়েক দিন ধরে আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে। মঙ্গলবার সকালেও বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সব পক্ষের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারী বর্ষণে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও সার্বিক পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই পাঁচ জেলায় আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। বাকি সব বোর্ডে পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন জানান, কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে কোনো সমস্যা হলে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত কিংবা সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারবে। এ ছাড়া বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে তিনি চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
পরীক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, 'পরীক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও মানসিক অবস্থার গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে। নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির মূল্যায়ন করে যথাসময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করাও সরকারের দায়বদ্ধতা।'
পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল পাওয়া গেছে বলে স্বীকার করে মাহদী আমিন জানান, ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক উসকানির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেন। উল্লেখ্য, বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষা নেওয়া এবং প্রশ্নপত্রে ভুলের প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা দিনভর বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। রাতে শিক্ষামন্ত্রী পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দিলে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত হয়।