কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বাড়ছে

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কাপ্তাই হ্রদের পানির বৃদ্ধি পাওয়া কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, উৎপাদন ২২২ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এর আগে একটানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির লেভেল বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট গত ৭ জুলাই সন্ধ্যা থেকে একসঙ্গে চালু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, 'টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির লেভেল গত সপ্তাহ থেকে বাড়ছে, ফলে পানির উপর নির্ভরশীল এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

এর মধ্যে ১ নম্বর ইউনিটথেকেপ্রতিটিতে ৪৬ মেগাওয়াট করে ৯২ মেগাওয়াট, ৩ নম্বর ইউনিটে ৫০ মেগাওয়াট এবং ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিটথেকে প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। পাঁচটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট।

এদিকে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কনট্রোল রুমের দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির লেভেল আছে ১০২.২৫ ফুট মিন সি লেভেল। রুলকার্ভ অনুযায়ী এ সময় পানি থাকার কথা ৮৫.০৮ ফুট মিন সি লেভেল। তারা আরো জানান, হ্রদে পানির স্বল্পতায় বিগত কয়েক মাস ধরে কখনো একটি বা দুইটি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলেও গত সপ্তাহ থেকে পাঁচটি ইউনিট চালু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, কাপ্তাই হ্রদে পানির ধারণক্ষমতা ১০৮ ফুট মিন সি লেভেল।
উল্লেখ্য, ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের জন্য, কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর জন্য তৈরি হয় কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ। ১৯৫৬ সালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয় এবং এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৬২ সালে।

এই বাঁধের পাশে ১৬টি জলকপাট সংযুক্ত ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি পানি নির্গমন পথ বা স্পিলওয়ে রয়েছে। এই স্পিলওয়ে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক ফিট পানি বয়ে যেতে পারে। শুরুর দিকে এর ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ ও ২ নম্বর ইউনিট স্থাপন করা হয়। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে মোট পাঁচটি ইউনিট চালু আছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।