মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে টানা ২৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজশাহী থেকে সারাদেশে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১০টায় পরিবহন শ্রমিকদের বিবদমান দুই পক্ষ ও প্রশাসনের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর টার্মিনাল থেকে যানবাহন ছাড়তে শুরু করে। এর আগে সোমবার রাত ৮টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
পরিবহন শ্রমিক সূত্র জানায়, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শ্রমিকদের একটি বড় অংশ সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি জানায়। তবে জেলা প্রশাসক সেই দাবি নাকচ করে নিজেই কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন এবং সেখানে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন।
প্রশাসনের এই প্রস্তাবে শ্রমিকদের একাংশ অসম্মতি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়। এরই জেরে রফিকুল ইসলাম পাখি এবং মোমিনুল ইসলাম মোমিন সমর্থিত শ্রমিক গ্রুপের বিরোধে সোমবার রাত থেকে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার নূর আলম সিদ্দিকীকে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দেন।
মঙ্গলবার দিনভর দফায় দফায় বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয় যে, মোমিন গ্রুপের দাবি অনুযায়ী নির্বাচনী কমিটিতে নজরুল ইসলাম হেলাল থাকবেন না। নির্বাচনটি জেলা প্রশাসকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া নির্বাচনের আগ পর্যন্ত টার্মিনাল পরিচালনার জন্য দুই পক্ষের চারজন করে মোট আট সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সমঝোতার পর বাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও শ্রমিক নেতা লিটন আলীর আপত্তির কারণে তা বিলম্বিত হয়। লিটন আলী ও তার অনুসারীরা ‘নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কোনো বাস চলবে না’ মর্মে টার্মিনাল এলাকায় মাইকিং শুরু করলে ফের অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরে রাত ১০টার দিকে সব পক্ষ পুনরায় একমত হলে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে শ্রমিক নেতা লিটন আলী জানান, সাধারণ শ্রমিকদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে কিছুটা সময় লেগেছিল। তবে সমঝোতা অনুযায়ী আপাতত বাস চলাচল শুরু হয়েছে। সংকট নিরসনে রাতে আবারও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে তাদের একটি বৈঠকের কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শ্রমিকদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের নির্বাচনী বিরোধের অবসান ঘটবে।