যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শহরে এক বন্দুকধারীর গুলিতে ছয় পুলিশ আহত হওয়ার সাত ঘণ্টা পর বন্দুকধারী আত্মসমর্পণ করেছে।
বুধবার স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর নিসটাউন-টিয়াগো আবাসিক এলাকার এক বাড়িতে পুলিশের সঙ্গে ঐ পুরুষ বন্দুকধারীর গোলাগুলি শুরু হয়।
মাদক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে ঐ বাড়িতে গিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা, তখন ঐ বন্দুকধারী তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর থেকে সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বন্দুকধারী ঐ বাড়িতে ব্যারিকেড গড়ে তুলে অবস্থান নিয়েছিল আর পুলিশ বাড়িটি ঘিরে রেখে তাকে আত্মসমর্পণের আহবান জানিয়ে যাচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা একটি ভিডিওতে কথিত ঐ বন্দুকধারীকে, মার্কিন গণমাধ্যমে যার নাম মরিস হিল (৩৬) বলা হয়েছে, হাত মাথার উপরে তুলে বাড়িটি থেকে বের হতে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে সন্দেহভাজনকে পুলিশ হেফজাতে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকালে ঘটনার শুরুতেই দুই পুলিশ কর্মকর্তা ঐ বাড়ির ভেতরে বন্দুকধারীর সঙ্গে আটকা পড়ে গিয়েছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর পুলিশের সোয়াত টিম অভিযান চালিয়ে বাড়িটি থেকে ঐ দুই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। ঐ বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় পুলিশ দুই জন সন্দেহভাজনকেও গ্রেপ্তার করেছিল, কিন্তু তারাও ভেতরে আটকা পড়েছিল; সোয়াত টিম তাদেরও উদ্ধার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এক টুইটে ফিলাডেলফিয়ার পুলিশ কমিশনার রিচার্ড রস জানিয়েছেন, ঐ বাড়িতে বন্দুকধারীর সঙ্গে যে কর্মকর্তারা ও অন্য বন্দিরা আটকা পড়েছিলেন তাদের নিরাপদে বের করে আনা হয়। আহত ছয় পুলিশ কর্মকর্তার কারোরই আঘাত গুরুতর ছিল না। তাদের মধ্যে কয়েকজন ঐদিন রাতে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, পুলিশ কর্মকর্তারা ঐ বাড়িতে অভিযানে গিয়ে গুলির মুখে পড়েন, গুলি থেকে বাঁচতে তাদের অনেকে জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়েন, কেউ কেউ দরজা দিয়ে বের হয়ে আসেন। ঐ বন্দুকধারী বাড়িটির সামনে রাখা সোয়াত টিমের একটি ট্রাক লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে যাচ্ছিল এবং কয়েকটি গুলি রাস্তার অপর পাশের ভবনগুলোতেও আঘাত করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বন্দুকধারী ঘটনাটি ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করছে বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিল হোয়াইট হাউজ।