ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে ভাগ্যের ওপর কিছুই ছেড়ে দিতে রাজি নন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। দলের সৌভাগ্য কামনায় কেউ হ্যারি কেইন বা জুড বেলিংহ্যামের নাম লিখে ফ্রিজে রাখছেন, কেউ আবার প্রতিটি ম্যাচে একই জার্সি, একই আসন কিংবা একই খাবারের রীতি মেনে চলছেন। তাদের বিশ্বাস, এসব ‘কাবালা’ বা সৌভাগ্যের আচার দলের জয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। খবর রয়টার্স।
আর্জেন্টিনায় ফুটবল ঘিরে ‘কাবালা’ দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির অংশ। সমর্থকদের ধারণা, নির্দিষ্ট কিছু রীতি অনুসরণ করলে দলের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। তাই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে আবারও সেই বিশ্বাসে আস্থা রাখছেন তারা।
১৩ বছর বয়সী সমর্থক ইনেস মুত্রি জানায়, সে ও তার বন্ধুরা প্রতিটি ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এবং গোলরক্ষকের নাম একটি কাগজে লিখে ফ্রিজে রেখে দেয়। ইনেস বলে, ‘এবার আমরা হ্যারি কেইনের নাম ফ্রিজে রাখব, কারণ সে তাদের সর্বোচ্চ গোলদাতা।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই কুসংস্কারের নতুন রূপ দেখা যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবিতে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বরফের ব্লকের মধ্যে আটকে দেখানো হচ্ছে। প্রতীকীভাবে এর অর্থ, তারা যেন মাঠে নড়াচড়া করতে না পারে, গোল করতে না পারে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সেভ করতে না পারে।
১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হুয়ান পাবলো কালভো জানান, তিনি জুড বেলিংহ্যামের নাম ফ্রিজে রাখার পরিকল্পনা করেছেন। তার ভাষায়, ‘বেলিংহ্যাম অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। তবে আমি এখনও আর্জেন্টিনার জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।’
কুসংস্কার শুধু সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ কার্লোস বিলার্দোও নানা অদ্ভুত রীতিনীতির জন্য পরিচিত ছিলেন। বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনিও নিজের একটি ব্যক্তিগত আচার থাকার কথা জানিয়েছেন।
স্কালোনি বলেন, ‘আমি সবসময় ডান পা দিয়ে মাঠে প্রবেশ করি এবং ক্রুশ চিহ্ন এঁকে নিই।’
আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আরেকটি বিশ্বাস হলো, জয়ের পর পরের ম্যাচে কোনো কিছু বদলানো যাবে না। একই জার্সি, একই আসন, একই সঙ্গী, এমনকি সম্ভব হলে একই খাবারও বজায় রাখতে হবে। তাদের ধারণা, এই ধারাবাহিকতা ভাঙলে সৌভাগ্যও বদলে যেতে পারে।
ইনেস মুত্রিও তার আট বন্ধুকে নিয়ে প্রতিটি ম্যাচ একই জায়গায়, একই টুপি পরে বসে দেখে। ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে সে বলে, ‘অন্য সব ম্যাচের মতো এটাও খুব স্নায়ুচাপের হবে। তবে আমি নিশ্চিত, ম্যাচটা দারুণ হবে।’
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার লড়াই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক দ্বৈরথ। দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল থেকে শুরু করে একের পর এক স্মরণীয় নকআউট ম্যাচ—এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আর সেই ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায়ের আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা আবারও ভরসা রাখছেন নিজেদের প্রিয় ‘কাবালা’তেই।
সূত্র: রয়টার্স