ঔপনিবেশিক আমলে রাজশাহী শহরের পদ্মার তীরে চুন আর সুরকি দিয়ে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী ভবনটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ভবনটি রাজশাহী কারাগারের অভ্যন্তরেই। সর্বশেষ ভবনটি কারাগারের উপ-মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি প্রিজনস) বাংলো হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছিল। যা সংস্কারের নামে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো প্রত্নতত্ত্ববিদের পরামর্শ না নিয়েই ভেঙে ফেলা হচ্ছে ২০০ বছরের পুরোনো এ ভবনটি। তবে কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবনটি একেবারে বসবাসের অনুপযোগী। তাই ভবনটি সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে সংস্কার কাজে ব্যয় করা হচ্ছে ৭০ লাখ টাকা। ভবনটির মূল নকশা অপরিবর্তিত রেখেই সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।
রাজশাহী বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শক আলতাব হোসেন বলেন, ভবনটির ছাদ পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছিল। ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ত, ইটের টালি খুলে পড়ত। সংস্কার কাজে ভবনের মূল নকশার কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে না। সংস্কারের পর ভবনটিকে আগের মতোই মনে হবে। ভবনটি পরিত্যক্ত হবার পর ডিআইজি প্রিজনসের বাসভবনের জন্য নতুন একটি ভবন নির্মাণ করতে চাওয়া হয়। কিন্তু শুধু পুরোনো ভবনটি সংস্কারের অর্থ সংস্থান হওয়ায় গণপূর্ত বিভাগ কাজটি বাস্তবায়ন করছে।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানা বলেন, ভবনটি নির্মাণের জন্য তারা একজন ঠিকাদার নিয়োগ করেছেন। ভবনটি পুরাকীর্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি, কাজেই সংস্কারের জন্য প্রত্নতত্ত্ববিদদের পরামর্শের কোনো প্রয়োজন নেই।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, প্রত্নতত্ত্ববিদ ছাড়া একটি প্রত্নসম্পদের সংরক্ষণ ডাক্তার ছাড়া অস্ত্রোপচার করার মতোই।