নিকলীতে দুই মাসে চার বিদ্যালয়ে ৪৭ ছাত্রীর বাল্যবিয়ে

নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের শহীদ স্মরণিকা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মধ্যে বাল্যবিয়ের প্রবণতা বেড়ে গেছে। গত দুই মাসে ঐ বিদ্যালয়ের ২৪ ছাত্রীর বাল্যবিয়ে হয়েছে। গত দুই মাসের মধ্যে একই উপজেলার ইউনিয়নে দামপাড়া কারার মাহতাবউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রীর বাল্যবিয়ে হয়েছে। এ বি নুরজাহান উচ্চবিদ্যালয়ের ১২ ছাত্রী ও রসুলপুর হানিফ ভূইয়া উচ্চবিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রীর বাল্যবিয়ে হয়েছে। এতে ঐ চার বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

দামপাড়া কারার মাহতাবউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, গত জুলাই, আগস্ট এই দুই মাসে ঐ বিদ্যালয়ের অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির পাঁচ ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে। বাল্যবিয়েতে বাধা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। গোপনে অভিভাবকরা বিয়ে দিচ্ছেন।

নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়া আহমেদ বলেন, মাঝে-মধ্যে এলাকার কিছু লোক ইউপি কার্যালয়ে এসে মেয়েদের বয়স বাড়িয়ে জন্মসনদ নিতে চান। আমি তাদের বুঝিয়ে ফিরিয়ে দিই এবং এতো ছোটো বয়সে বিয়ে দিলে তার কুফল সম্পর্কেও বুঝিয়ে বলি। ইউনিয়নের কোথাও বাল্যবিয়ের খবর পেলে বিভিন্ন সময় বাধা দিই। এরপর দেখা গেলো কিশোরগঞ্জ থেকে নোটারি ক্লাবের মাধ্যমে বয়স বাড়িয়ে এনে এলাকার মৌলভী দিয়ে ঠিকই বিয়ে পড়ানোর কাজটি করিয়ে নিচ্ছে। নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছিরউদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে প্রতিটি এলাকায় অভিভাবকদের নিয়ে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে একটি করে সভা করার প্রয়োজন।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা আক্তার জানান, দুই মাসে চারটি বিদ্যালয় থেকে এতগুলো বাল্যবিয়ে হয়ে গেলেও ঐ এলাকার কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানাননি। বিদ্যালয়গুলোতে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সভা ডাকলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।