দোয়া ইউনুস পড়ার নিয়ম, অর্থ ও পাঠের ৫টি বিশেষ ফজিলত

আমাদের জীবনে প্রায়ই দুঃখ, কষ্ট ও দুর্দশা আসে। বিপদে আমরা অনেকেই দিশেহারা হয়ে যাই; হতাশ হয়ে যাই। না, হতাশ হওয়া যাবে না। বরং বিপদে ধৈর্য ধরতে হবে এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে। 

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমার কাছে দোয়া করো। আমি তোমাদের দোয়া কবুল করবো’ (সূরা মুমিন, আয়াত ৬০।) 

আরবি দোয়া শব্দের অর্থ ডাকা, আহ্বান করা, প্রার্থনা করা, কোনো কিছু চাওয়া ইত্যাদি।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া ছাড়া আর কিছুই আল্লাহর সিদ্ধান্তকে বদলাতে পারে না।’ (তিরমিজি, হাদিস নম্বর ২১৩৯।) দোয়া সব ইবাদতের মূল।

দোয়া ইউনুস-এর পরিচয় 

আল্লাহর পয়গাম্বর হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম দেশ ত্যাগ করে চলে যাওয়ার সময় নদীতে ঝাঁপ দিলে তিনি মাছের পেটে বন্দি হন। এ অবস্থায় বিপদে পড়ে তিনি মহান আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়েন আর সে দোয়ার বরকতে আল্লাহ তাকে মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলেন, তাই দোয়া ইউনুছ। আর তাহলো-

দোয়া ইউনুস এর আরবি উচ্চারণ ও বাংলা অর্থ
 لَا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লা আংতা, সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জ্বালিমিন।'

অর্থ : 'তুমি ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই; তুমি পুতঃপবিত্র, নিশ্চয় আমি জালিমদের দলভুক্ত।'

দোয়া ইউনুস পাঠের ৫টি বিশেষ উপকারিতা

নিয়মিত ও আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়া ইউনুস পাঠ করলে আল্লাহর রহমতে নিম্নলিখিত উপকারগুলো লাভ করা যায়:

১. যেকোনো বড় বিপদ-আপদ ও কঠিন সংকট থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার পথ সুগম হয়।

২. মন থেকে সব ধরনের দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, ভয় ও মানসিক অস্থিরতা দূর হয়।

৩. আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল (ভরসা) এবং ইমানের ভিত আরও মজবুত হয়।

৪. নিজের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তওবা করার অভ্যাস গড়ে ওঠে।

৫. আল্লাহর বিশেষ রহমত, দয়া ও সাহায্য লাভের পথ উন্মুক্ত হয়।

দোয়া ইউনুস নিয়ে প্রচলিত ভুল

দোয়া ইউনুস পাঠের জন্য ইসলামি শরিয়তে কোনো সুনির্দিষ্ট সময় বা সংখ্যা (যেমন ১ লাখ ২৫ হাজার বার) নির্ধারণ করা হয়নি। আমাদের সমাজে প্রচলিত নির্দিষ্ট সংখ্যা মেপে যে ‘খতমে ইউনুস’ পড়ানো বা আয়োজন করা হয়, তার কোনো স্পষ্ট শরয়ি দলিল বা সহিহ হাদিসের ভিত্তি নেই। ইসলামের মূল শিক্ষা হলো-বিপদগ্রস্ত বান্দা নিজেই নিজের হৃদয়ের আকুতি নিয়ে আল্লাহর কাছে কাঁদবে ও ক্ষমা চাইবে।

দোয়া ইউনুস পড়ার নিয়ম

যে কোনো বালা-মসিবত, বিপদাপদ, দুশ্চিন্তা-পেরেশানি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ইত্যাদি থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে দোয়া ইউনুস পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর আমল। কিন্তু এ দোয়া ইউনুস কখন, কীভাবে এবং কতবার পড়তে হয়? সমাজে প্রচলিত খতমে ইউনুস উপলক্ষে বিভিন্ন সংখ্যায় এ দোয়া পড়ার কি সঠিক?

দোয়া উইনুস পড়ার নিয়ম হলো মহান আল্লাহর কাছে একান্ত বিনয় ও নম্রতা, একাগ্রতা, পূর্ণ আন্তরিকতা ও ভয়ভীতির মাধ্যমে যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ বা সংখ্যা নেই। তবে এ দোয়া কবুল ও উপকারিতা লাভে রয়েছে কিছু নিয়ম-নীতি আর তাহলো-

আমির সানআনি বলেন, 'যদি বলা হয়, এটা তো একটা জিকির, দোয়া নয়, তবে আমরা বলব, এটি এমন একটি জিকির যা দ্বারা দোয়া শুরু করা হয়। এটা পড়ার পর যা ইচ্ছা দুআ করা যাবে।' (আত-তানবির)

এভাবে প্রথমে দোয়া ইউনুস পাঠ করার পর আল্লাহর কাছে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য নিয়ে দোজা করলে, আশা করা যায়, মহান দয়ালু দাতা আল্লাহ দোয়া কবুল করবেন। এ ক্ষেত্রে দোয়া কবুলের শর্তাবলি ও আদব ঠিক থাকতে হবে।এ দোয়ার আমলকারীকে অবশ্য্ হালাল উপার্জন থেকে খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করা এবং হালাল অর্থের উপর জীবন যাপন করা।দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরুদ পাঠ করা। দোয়া শেষে আবারও দরুদ পাঠ করা ভালো।

অন্তরে দোয়া কবুল হওয়ার দৃঢ় আস্থা ও মনোভাব অক্ষুণ্ন রাখা।

একান্ত বিনয়-নম্রতার সাথে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বারবার দোয়া করতে থাকা।

দোয়া করতে করতে বিরক্ত না হওয়া।

দোয়া কবুলের জন্য তাড়াহুড়া না করা।

দোয়ার মধ্যে গোনাহের কোনো কিছু না থাকা ইত্যাদি।